এবিএম জাকিরুল হক টিটন
প্রকাশ: শুক্রবার, ৮ আগস্ট ২০২৫
এই সময়ের সঙ্গীতের বিশাল ভুবনে এক অনন্য নাম লুইপা। মায়াময় কণ্ঠ, সূক্ষ্ম গায়কি আর পরিশীলিত সংগীত প্রতিভায় তিনি হয়ে উঠেছেন এই প্রজন্মের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
জন্ম ১৯৯২ সালের ৮ আগস্ট, বগুড়ায়। পুরো নাম জিনিয়া জাফরিন লুইপা, তবে সঙ্গীতমঞ্চে তিনি পরিচিত শুধু‘লুইপা’ নামেই। বাবা জহুরুল হক, মা তাহমিনা বেগম। পড়াশোনা করেছেন বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে। স্বামী আলমগীর হোসেন, দেশের এক খ্যাতিমান যন্ত্রসঙ্গীতশিল্পী।
২০১০ সালে চ্যানেল আই আয়োজিত ‘সেরাকণ্ঠ’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে চতুর্থ স্থান অর্জন করেন লুইপা। সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর পেশাদার সংগীতজীবনের পথচলা, যা ইতোমধ্যে এক যুগেরও বেশি সময় অতিক্রম করেছে।
তার সংগীতচর্চার পেছনে রয়েছে কঠোর সাধনা ও তালিম। সংগীতের পাঠ নিয়েছেন ওস্তাদ এস. এম. বেলাল হোসেন এবং মো. রেজওয়ানুল ইসলাম এর কাছে। ঢাকায় এসে যাঁর সান্নিধ্য ও অনুপ্রেরণায় সংগীতজীবনে দৃঢ়তা পেয়েছেন, তিনি আরেক জনপ্রিয় শিল্পী প্রিয়াংকা গোপ।
লুইপা তাঁর মধুর কণ্ঠে উপহার দিয়েছেন অসংখ্য হৃদয়ছোঁয়া গান। কিছু উল্লেখযোগ্য ‘জোছনা করেছে আঁড়ি’ বেগম আখতারের কালজয়ী গানে নতুন প্রাণ ‘আমার আপনার চেয়ে আপন যেজন’ নজরুলসঙ্গীতের আবেগময় পরিবেশনা তাঁর কিছু জনপ্রিয় মৌলিক গান হলো—‘ঘুরে ফিরে ফিরে ঘুরে’,‘জেন্টলম্যান’, ‘আমার চোখের জলের মাঝে’,‘অপরূপ বাংলাদেশ’।
এই গানগুলো শুধু তাঁর গায়কি নয়, তাঁর সংগীতবোধ, উপস্থাপন ও আবেগ প্রকাশের নিপুণতার পরিচয় দেয়।
দেশের নামজাদা বহু গীতিকবি, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছেন লুইপা। সময়ের সেরা শিল্পীদের সঙ্গে একই মঞ্চ ভাগ করে নিয়েছেন তিনি — দেশে ও বিদেশে। এই অভিজ্ঞতাগুলো তাঁকে করেছে আরও পরিণত, আরও সমৃদ্ধ।
শুভকামনায় সুর বেঁধে, আজকের এই বিশেষ দিনে, আমরা কামনা করি—
লুইপার সুর যেন পৌঁছে যায় আরও বহু দূরে। তাঁর কণ্ঠে ফুটে উঠুক বাংলার রাগ-রস-রং ও সুর, তাঁর সংগীত পৌঁছাক অন্তর থেকে অন্তরে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ুক জগৎময়।
শিল্পী লুইপার জন্য রইল অন্তর থেকে নিরন্তর শুভ কামনা।
জন্মদিন হোক আনন্দে, ভালোবাসায় ও সুরের মাধুর্যে পরিপূর্ণ।
লুইপা, আপনি খ্যাতির আকাশ স্পর্শ করুন।
লেখক – সম্পাদক ও প্রকাশক ‘খবরওয়ালা’