খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১০ আগস্ট ২০২৫
গাজীপুরে প্রকাশ্যে সাংবাদিক হত্যার ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘আমরা জাতি হিসেবে খুব অসহিষ্ণু হয়ে গেছি। যাদের মধ্যে কোনো ধৈর্য নেই। আগে সমাজে কোনো আপত্তিকর ঘটনা ঘটলে প্রতিহত করার জন্য সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ত। কিন্তু আজকাল এসব ঘটনা দেখা যায় না। সবাই ভিডিও করার জন্য ব্যস্ত থাকে।’
রবিবার (১০ আগস্ট) দুপুরে আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপদেষ্টা এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘জনসম্মুখে কোনো ঘটনা ঘটলেও কেউ প্রতিহত করতে সামনে আসে না। সরকারি বাহিনীর লোক তো সব সময় কাছে থাকে না। হয়তো পরে এসে উপস্থিত হয়। গাজীপুরে যে ঘটনা ঘটেছে, সেটা খুবই দুঃখজনক। এ ধরনের ঘটনা ঘটুক সমাজে, এটা কেউ চিন্তাও করতে পারে না। কিন্তু ঘটনাটা ঘটে গেছে। এ ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের আমরা আইনের আওতায় নিয়ে এসেছি। তবে যার জীবনটা চলে গেছে, তাকে আর ফেরত পাওয়া যাবে না। এ জন্য আমরা সবাই যদি সচেতন হই, যদি একটু ধৈর্য ধরি, তাহলে এসব ঘটনা ঘটবে না। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের প্রায় সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা যেন শাস্তি পায়, সেই ব্যবস্থা করব।’
পাবলিক চার্টারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘পাবলিক চার্টারে জনগণের প্রতিকার করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ধীরে ধীরে আমরা এই আইন ভুলে যাচ্ছি। আপনারা যদি জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতেন, তাহলে ভালো হতো। অনেক সময় দেখা যায়, বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যমে আগের ভিডিও ছেড়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়। এটা করলে নাকি ইউটিউবে পয়সা পাওয়া যায়। এ জন্য অনেকে এসব করে। শেরপুরে যে ঘটনা ঘটেছে, সেটা কিন্তু সাম্প্রতিক। যেখানে নানিকে মেরে ফেলছে, সেখানে নাতি ভিডিও করছে—টাকার জন্য।’
নিউমার্কেটে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এগুলো দেশীয় অস্ত্র। এগুলোর প্রতি সবারই সচেতন হতে হবে। যারা এগুলো বানাচ্ছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। আমাদের যে অস্ত্রগুলো হারিয়ে গেছে, সেগুলোর জন্য আমরা বিজ্ঞপ্তি দেব এবং তথ্যদাতাকে পুরস্কৃত করব। কমিটি গঠন হবে এবং কয়েক দিনের মধ্যে তা গণমাধ্যমে আসবে।’
গাজীপুর সাংবাদিক হত্যা মামলার দ্রুত চার্জশিট দেওয়ার কথা জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে ঘটনাটা প্রকাশ হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি সাত থেকে ১৫ দিনের মধ্যে চার্জশিট দিতে। আরও কয়েকজন আসামি ধরা বাকি আছে।’
নির্বাচন নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘নির্বাচনে আনসারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এবার প্রিসাইডিং অফিসারের সঙ্গে অস্ত্রসহ আনসার থাকবে, যাতে কোনো হামলা না হয়। অন্যান্যবার দুজনের কাছে অস্ত্র থাকলেও এবার তিনজনের কাছে থাকবে। এছাড়া পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনীও অস্ত্রসহ দায়িত্ব পালন করবে।’
শেষে তিনি বলেন, ‘গাজীপুরে আরেকটি ঘটনায় পুলিশের সামনেই একজনকে ইট দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। কমিশনার জানিয়েছেন, পুলিশ এখনো ট্রমায় আছে। একজনের কাজ তিনজন মিলে করলেও স্বাভাবিকভাবে কাজ হচ্ছে না।’
খবরওয়ালা/এসআই