খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৩ আগস্ট ২০২৫
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ, বাংলাদেশের অন্যতম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত স্থান, যা পরিচিত সাদা পাথর নামে। এই মনোমুগ্ধকর পাথরগুলো কোথা থেকে এসেছে, কীভাবে এসেছে—তার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সময়ের এক ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস।
ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর এসেছে প্রধানত ভারতের মেঘালয়ের খাসি ও জৈন্তা পাহাড় থেকে। সেখানে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে শিলার ক্ষয়, আবহাওয়ার প্রভাব ও নদীর স্রোতের ধাক্কায় গড়ে উঠেছে পাথরের স্তূপ। এসব শিলা মূলত গ্রানাইট, কোয়ার্টজ ও অন্যান্য কঠিন পাথরের মিশ্রণ।
বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢাল ও ঝরনা থেকে গড়িয়ে নামা এসব পাথরের প্রধান বাহক হলো পিয়ান নদী (ভারতে পিয়াইন নামে পরিচিত) এবং ধলাই নদী। ভারতের খাসি-জৈন্তা পাহাড় থেকে নেমে আসা ধলাই নদীর পানির সঙ্গে প্রতিবছর বর্ষায় প্রচুর পাথর ভেসে আসে। ধলাই নদীর তলদেশেও রয়েছে বিপুল পাথরের মজুদ। বর্ষার প্রবল ঢল পাথরগুলো ভাসিয়ে আনে ভোলাগঞ্জ পর্যন্ত, আর স্রোত কমে গেলে ভারী পাথর নদীর তলদেশ ও তীর ঘেঁষে স্তূপাকারে জমা হয়।
শত বছরেরও বেশি সময় ধরে এভাবেই ভোলাগঞ্জে গড়ে উঠেছিল সাদা পাথরের বিশাল ভাণ্ডার। প্রতি বর্ষায় নতুন পাথর কিছুটা করে যোগ হলেও বড় অংশ জমা হয়েছিল বহু আগেই, যখন পাহাড়ি ক্ষয়প্রক্রিয়া ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি সক্রিয়।
প্রকৃতির এই ধৈর্যশীল কাজের ফলেই ভোলাগঞ্জ হয়ে উঠেছিল পৃথিবীর অন্যতম অনন্য পর্যটনকেন্দ্র। কিন্তু এক বছরের নজিরবিহীন পাথর লুটপাট সেই ভাণ্ডার প্রায় শূন্য করে দিয়েছে, আর প্রাকৃতিক ঐতিহ্য আজ বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে।
খবরওয়ালা/এমএজেড