খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 29শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ১৩ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মানহানির অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) বিকেলে আখাউড়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন ইমিগ্রেশন পুলিশের ওসি মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার। তবে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, ওসির ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে এই মামলা করা হয়েছে।
মামলার আসামি দুই সাংবাদিক হলেন, দৈনিক যুগান্তরের ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টাফ রিপোর্টার ও আখাউড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. ফজলে রাব্বি এবং আরটিভির আখাউড়া উপজেলা প্রতিনিধি ও আখাউড়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন।
গত ৪ আগস্ট আরটিভি অনলাইন ও ৭ আগস্ট দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আখাউড়া ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে ওসির নেতৃত্বে ঘুষ বাণিজ্য ও অনিয়মের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, মেডিকেল ভিসায় ভারতে যাওয়া যাত্রীদের কাছ থেকে পাঁচ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয় এবং টাকা না দিলে সীমান্ত পারাপার বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা ঘুষ আদায় করছে একটি প্রভাবশালী চক্র, যেখানে ওসি আব্দুস সাত্তার, এসআই আব্দুর রহিম ও কনস্টেবল দেলোয়ার হোসেনের যোগসাজশ রয়েছে।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাংবাদিকরা ওসিকে নিয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে মানহানি করেছেন এবং বিভিন্ন সময়ে তার কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ আনা হয়েছে।
ফজলে রাব্বি বলেন, ‘আমরা পেশাগত দায়িত্বে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করেছি। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলা হয়রানিমূলক এবং সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা। অবিলম্বে এটি প্রত্যাহার করতে হবে।’
সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘সত্য প্রকাশই সাংবাদিকের কাজ। মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের কণ্ঠরোধ করা যাবে না। সঠিক তদন্ত হলে ইমিগ্রেশন ওসির দুর্নীতির চিত্র স্পষ্ট হবে। তবে মামলাটি তদন্ত ছাড়াই রুজু করা হয়েছে।’
আখাউড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন লিটন বলেন, ‘সত্য সংবাদ প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা তীব্র নিন্দা জানাই এবং মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।’
আখাউড়া থানার ওসি মো. ছমিউদ্দিন বলেন, ‘মামলাটি এফআইআর করা হয়েছে। চাঁদাবাজি ও মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মামলা এফআইআরভুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে তদন্ত চলছে।’
খবরওয়ালা/টিএসএন