খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ই আগস্ট ২০২৫, ১০:৫৭ এএম
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচনের ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার। যদিও এ নিয়ে নানা মত ও অনিশ্চয়তা রয়েছে, তবুও নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার ও নির্বাচন কমিশন প্রস্তুতি শুরু করেছে। প্রার্থীরা মাঠে কাজ করছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত হচ্ছে, এবং সরঞ্জাম কেনাও চলছে। তবে আগামী নির্বাচনে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র বড় শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
৫ই আগস্টের পর ৪৬০টি থানা ও ১১৪টি ফাঁড়িতে হামলা চালিয়ে পুলিশের প্রায় দেড় হাজার অস্ত্র লুট হয়, যা এখনো উদ্ধার হয়নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও যৌথবাহিনীর একাধিক অভিযানে তেমন সাফল্য মেলেনি। সরকার পুরস্কার ঘোষণা করলেও কাজের কাজ হয়নি। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় দেয়া বহু অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল হওয়ায় এসব অস্ত্রও অবৈধ হয়েছে। জমা দেয়ার সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও প্রায় ৭ হাজার ৬১১টি অস্ত্রের হদিস নেই।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব অস্ত্র ইতিমধ্যে শীর্ষ সন্ত্রাসী, চরমপন্থি, জেল পলাতক আসামি, পেশাদার অপরাধী এবং রাজনৈতিক ক্যাডারদের হাতে গেছে। এগুলো খুন, চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধে ব্যবহার হচ্ছে। নির্বাচনে পেশিশক্তি প্রদর্শনের জন্যও এগুলো কাজে লাগতে পারে। তাই ভিন্ন কৌশলে সেনাবাহিনীর সহায়তায় দ্রুত উদ্ধার জরুরি।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, গণ-অভ্যুত্থানের পর শীর্ষ সন্ত্রাসীরা জামিনে মুক্ত হয়ে ফের অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং লুট হওয়া অস্ত্র চড়া দামে কিনেছেন। পুলিশের তথ্যমতে, ৫ই আগস্টের পর দেশের ৬৬৪ থানার মধ্যে ৪৬০টি ও ১১৪ ফাঁড়িতে হামলায় স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) ৫,৭৫৩টি অস্ত্র এবং ৬,৫১,৮৩২ রাউন্ড গুলি লুট হয়। উদ্ধার হয়েছে ৪,৩৮৭টি অস্ত্র ও ৩,৯৪,০৮৭ রাউন্ড গুলি, বাকি ১,৩৬৬টি অস্ত্র ও ২,৫৭,৭৪৫ রাউন্ড গুলি এখনো নিখোঁজ। গণভবন থেকে লুট হওয়া ৩২টি অত্যাধুনিক অস্ত্রও উদ্ধার হয়নি।
আওয়ামী লীগের তিন মেয়াদে দেয়া ১৯,৫৯৪টি অস্ত্রের লাইসেন্সের মধ্যে ১০ হাজার রাজনৈতিক বিবেচনায় দেয়া হয়েছিল। এগুলোর লাইসেন্স বাতিলের পরও ৬,২৪৫টি অস্ত্র জমা পড়েনি। শুধু ঢাকা জেলায় বাতিল হওয়া লাইসেন্স ৩৮১টি, পাবনায় ১৪১, চট্টগ্রামে ৭৩, যশোরে ৬৬ ও কক্সবাজারে ৩৮টি। মালিকদের মধ্যে এমপি, ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও রয়েছেন।
অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হলে নির্বাচনে ব্যবহার হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির ঝুঁকি রয়েছে। মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম বলেন, লুট হওয়া অস্ত্র সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ এগুলো দিয়ে অপরাধ করলেও দায়বদ্ধতার সুযোগ নেই।
খবরওয়ালা/টিএসএন
মন্তব্য