খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৫ আগস্ট ২০২৫
আগামী ১২ অক্টোবর থেকে দেশে প্রায় ৫ কোটি শিশুকে বিনামূল্যে টাইফয়েড ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। প্রথমবারের মতো সরকার ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের এই টিকা দেবে।টিকা পেতে https://vaxepi.gov.bd/registration/tcv এ নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের জন্য ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন সনদের নম্বর প্রয়োজন। নিবন্ধন শুরু হয়েছে ১ আগস্ট থেকে এবং নিবন্ধনের পর সরাসরি ভ্যাকসিন কার্ড ডাউনলোড করা যাবে।
ইপিআই প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. আবুল ফজল মো. শাহাবুদ্দিন খান জানান, ১২ অক্টোবর থেকে ক্যাম্পেইন শুরু হবে। প্রথম ১০ দিন স্কুল ও মাদ্রাসায় ক্যাম্প চালানো হবে এবং পরের ৮ দিন ইপিআই সেন্টারে টিকা দেওয়া হবে। তিনি সবাইকে দ্রুত নিবন্ধনের আহ্বান জানান।
স্বাস্থ্য সচিব সায়েদুর রহমান বলেন, কিছু কাজ শেষ না হওয়া এবং পূজার ছুটির কারণে সেপ্টেম্বরের পরিবর্তে অক্টোবর মাসে টিকা দেওয়া হবে। তিনি এটিও নিশ্চিত করেন যে, এটি একটি নিরাপদ ভ্যাকসিন।
ইপিআই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এক ডোজের ইনজেকশনের মাধ্যমে এই ভ্যাকসিন ৩ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত সুরক্ষা দেবে। গ্যাভি ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্সের সহায়তায় এটি দেশে এসেছে।
ডব্লিউএইচও-এর তথ্য অনুযায়ী, টাইফয়েড হলো স্যালমোনেলা টাইফি ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্ট একটি সংক্রমণ, যা সাধারণত দূষিত খাদ্য বা পানি থেকে ছড়ায়। উপসর্গের মধ্যে রয়েছে দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, মাথাব্যথা, বমিভাব, ক্ষুধামন্দা, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া। গুরুতর ক্ষেত্রে জটিলতা বা মৃত্যু হতে পারে।
টাইফয়েড ভ্যাকসিন নিয়ে অভিভাবকরা অনেক ভয় পান। বেসরকারি চাকরিজীবী আহসান হাবিব বলেন, ‘এবারই প্রথম সরকারিভাবে টিকা দেওয়া হচ্ছে, তাই কিছুটা ভয় পাচ্ছি। এবার রেজিস্ট্রেশন করিনি।’
গ্যাভি সিএসও স্টিয়ারিং কমিটির চেয়ার ডা. নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘টাইফয়েড ভ্যাকসিন শতভাগ নিরাপদ। এটি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ব্যবহার হচ্ছে। এবার সরকার প্রায় ৪ থেকে ৫ কোটি শিশুকে বিনামূল্যে দেবে।’
ডা. আবুল ফজল মো. শাহাবুদ্দিন খান বলেন, ‘ভ্যাকসিন আগে বেসরকারি পর্যায়ে দেওয়া হতো। এখন সরকার বিনামূল্যে দেবে। সাইড ইফেক্ট থাকলেও বড় কোনো সমস্যা নেই। এটি নিরাপদ ভ্যাকসিন।’
ডব্লিউএইচও সুপারিশ করেছে, টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি) রুটিন টিকাদানে অগ্রাধিকার পাবে, কারণ এটি কম বয়সী শিশুদের জন্য উপযোগী এবং দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা দেয়। এছাড়া রোগ নিয়ন্ত্রণের অন্যান্য প্রচেষ্টার সঙ্গে স্বাস্থ্য শিক্ষা, পানির মান ও স্যানিটেশন উন্নয়ন, এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ সমন্বিতভাবে করা উচিত।
খবরওয়ালা/টিএসএন