খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৫ আগস্ট ২০২৫
ভারত সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একের পর এক নিষেধাজ্ঞায় বেনাপোল স্থলবন্দরে রফতানি বাণিজ্যে মারাত্মক ধস নেমেছে। স্বাভাবিক সময়ে দিনে গড়ে ২৫০ ট্রাক পণ্য রফতানি হলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৩০ ট্রাকের নিচে।
ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী দিনে রফতানি আরও সংকটে পড়বে। চলমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে তারা সরকারের জরুরি সহযোগিতা চেয়েছেন।
গত বুধবার (১৩ আগস্ট) বেনাপোল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে মাত্র ২৯টি ট্রাক পণ্য ভারতে রফতানি হয়েছে। বিপরীতে ভারত থেকে এসেছে ২২২ ট্রাক বিভিন্ন ধরনের পণ্য।
সর্বশেষ গত ১১ আগস্ট ভারত সরকার বাংলাদেশ থেকে পাট ও পাটজাতীয় কাপড়, পাটের দড়ি বা রশি, পাটজাতীয় দড়ি বা রশি দিয়ে তৈরি পণ্য এবং পাটের বস্তা বা ব্যাগ আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। সিদ্ধান্তটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয় বন্দরে।
এর আগে ২৭ জুন ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড (ডিজিএফটি) প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচা পাট, পাটের রোল, পাটের সুতা ও বিশেষ ধরনের কাপড় আমদানি বন্ধ করে।
তারও আগে ১৭ মে স্থলপথে ভারতের তৈরি পোশাক, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, প্লাস্টিক, কাঠের আসবাব, সুতা ও সুতার উপজাত, ফল ও ফলের স্বাদযুক্ত পানীয়, কোমল পানীয়সহ বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে দেশটি। আর ৯ এপ্রিল ভারতের কলকাতা বিমানবন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশের পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানির সুযোগও প্রত্যাহার করে নেয়।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম বলেন, “বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা দুই দেশের জন্যই ক্ষতিকর। তবে বেশি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশিদের ওপর। গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে একের পর এক রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে ভারত, যা বৈদেশিক বাণিজ্যের নীতি লঙ্ঘন।”
বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, বছরে ভারতের সঙ্গে প্রায় ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আমদানি ও ২ বিলিয়ন ডলারের রফতানি বাণিজ্য হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রফতানি হয় পাট ও পাটজাত পণ্য। “কিন্তু ভারত সরকার নানান অজুহাত দেখিয়ে এসব পণ্য স্থলপথে রফতানি বন্ধ করে সমুদ্রপথ ব্যবহারের কথা বলছে। অথচ এসব পণ্যের মাত্র ১ শতাংশের মতো সমুদ্রপথে যায়। ফলে সহজ রফতানি পথ বন্ধ হয়ে গেছে,” বলেন তিনি।
বেনাপোলের রফতানিকারক ইদ্রিস আলী বলেন, “ভারতে সরকার পরিবর্তন হলেও বাংলাদেশে এর প্রভাব পড়ে না। কিন্তু এবার বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর ভারত বাণিজ্যে প্রভাব বিস্তার করে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।”
বেনাপোল বন্দর পরিচালক শামিম হোসেন জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৯৫ হাজার ৮৯৯টি ট্রাকে ভারত থেকে ২০ লাখ ১১ হাজার ২৬৭ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে ৪৭ হাজার ৪৩৭টি ট্রাকে ৪ লাখ ২১ হাজার ৭১৩ মেট্রিক টন পণ্য রফতানি হয়েছে। “বর্তমানে নিষেধাজ্ঞার কারণে ৫ আগস্টের পর থেকে বন্দরে বাণিজ্য হ্রাস পাচ্ছে,” বলেন তিনি।
খবরওয়ালা/এসআই