খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: শনিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৫
কিশোরগঞ্জে কুকরারাই গ্রামে এক বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজের পাঁচদিন পর রাকিব মিয়া (২৭) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৫ আগস্ট) ভৈরবের লুন্দিয়া গ্রামের মেঘনা নদীর টুকচানপুর চরে কচুরিপানার ঝোপে আটকে থাকা অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে ভৈরব নৌ-পুলিশ।
এদিকে নিখোঁজের পর দিন ১১ আগস্ট রাতে রাকিবের মোবাইল ফোনের ৩২ সেকেন্ডের একটি অডিও রেকর্ড পাওয়া যায়। রাকিবের চাচা সম্পর্কিত তনয়ের নম্বরে আসা ওই ফোনকলে রাকিবের আর্তনাদ শোনা যায়।
ওইসময় খুনিরা রাকিবকে চরম নির্যাতন করছিল। রাকিব চিৎকার করে কেঁদে কেঁদে তাদের ‘আব্বা’ ডেকে ডেকে তাকে বাঁচাবার আকুতি জানাচ্ছিল।
পুলিশ জানায়, ১০ আগস্ট রাকিব বাড়ি থেকে ৫০০ টাকা নিয়ে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু কুকরারাই মুন্সীবাড়ির মৃত বাক্কার মিয়ার ছেলে শাওন মিয়ার সঙ্গে বের হন। ওই সময় তার পরনে ছিল জিন্স প্যান্ট ও নীলরঙা টি-শার্ট। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
নিখোঁজের চার দিন পর বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) রাকিবের ছোট ভাই রিয়াজ মিয়া বাজিতপুর থানায় সাধারণ ডায়রি (জিডি নং ৬০৩) করেন।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়, শাওন মিয়ার বসতঘরে রাকিবের প্যান্ট, এয়ারফোন ও কালো রঙের চশমা পাওয়া যায়।
এদিকে শুক্রবার (১৫ আগস্ট) সকালেই ভৈরবের লুন্দিয়া থেকে রাকিবের আত্মীয়দের কাছে খবর আসে, আগের দিন বৃহস্পতিবার বিকাল নাগাদ লুন্দিয়া গ্রামের পাশে মেঘনা নদীর পারে একটি লাশ আটকে ছিল। পরে গ্রামবাসী লাশটি ভাসিয়ে দেয়।
রাকিবের দাদা সম্পর্কিত কৈলাগ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আব্দুল করিম জানান, এ খবর পেয়ে গত বৃহস্পতিবার সকালেই তিনিসহ পরিবারের সদস্যরা আগানগর গিয়ে মেঘনার চরে কচুরিপানার ঝোপে একটি লাশ পান এবং সেটি রাকিবের বলে শনাক্ত করেন। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করার পর ভৈরব থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।
এদিকে ১১ আগস্ট রাতে রাকিবের ফোন থেকে তার চাচা সম্পর্কিত তনয়ের ফোনে একটি কল আসে। তনয় জানান, ঘুমের ঘোরে তিনি ফোন রিসিভ করে শুনতে পান, রাবিক আর্তনাদ করে বলছেন, ‘বাবারে আমারে বাঁচাও, ও আব্বা আব্বা গো আমারে বাঁচাও’। পরিবারের সদস্যরা জানায়, ফোনকলে রাকিবের আর্তচিৎকারের সময় অন্তত দুজনের কণ্ঠস্বর পরিচিত মনে হয়েছে।
ভৈরব নৌ-থানার পুলিশের ওসি মো. রাশেদুজ্জামান গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জানান, ৯৯৯ নম্বরে ফোনকল পেয়ে তারা রাকিবের লাশ উদ্ধার করেন। তিনি জানান, অকথ্য নির্যাতন চালিয়ে রাকিবকে হত্যা করা হয়েছে। অর্ধগলিত লাশেই তাঁকে গলা কেটে ও পেট-বুক ফেড়ে হত্যার প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে।
বাজিতপুর থানার ওসি মো. মুরাদ হোসেন বলেন, ‘খুবই ভয়ানকভাবে অল্প বয়েসী ছেলেটাকে খুন করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে। তবে মামলাটি বাজিতপুর থানায় না ভৈরব থানায় দায়ের হবে- এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন অফিসার সিদ্ধান্ত দেবেন। প্রকৃত খুনিদের গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। নিরীহ কেউ হয়রানির শিকার হবে না।’
খবরওয়ালা/এমইউ