খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৭ আগস্ট ২০২৫
রাজধানীর বনানীতে জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. নারায়ণ চন্দ্র দত্ত (নিতাই) হত্যা মামলায় পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড ও চারজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া একজন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (১৭ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এর বিচারক মো. রেজাউল করিম আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ডা. নিতাইয়ের গাড়িচালক কামরুল হাসান অরুণ, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু ওরফে মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু, মো. হোসেন মিজি ও সাঈদ ব্যাপারী। তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হয়েছে।
আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সাইদুল, মাসুম ওরফে প্যাদা মাসুম, মো. আবুল কালাম ওরফে পিচ্চি কালাম ও ফয়সাল। তাদেরও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া রফিকুল ইসলাম নামে আরেক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
২০১২ সালের ২৩ আগস্ট মহাখালী বক্ষব্যাধি হাসপাতালে নিজের বাসায় খুন হন ডা. নিতাই। এ ঘটনায় তার বাবা তড়িৎ কান্তি দত্ত বনানী থানায় মামলা দায়ের করেন।
২০১৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক গাজী আতাউর রহমান ১০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেন। এতে উল্লেখ করা হয়, চুরি করতে গিয়ে তারা ডা. নিতাইকে হত্যা করেন। মিন্টু, রফিকুল, পিচ্চি কালাম, সাইদুল, প্যাদা মাসুদ ও ফয়সাল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
ওই বছরের ২২ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে ২৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। এছাড়া পাঁচজন আসামি নিজেদের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ২২ আগস্ট রাত ১১টার দিকে মহাখালী ডা. কোয়ার্টার্সে নিতাই তার কক্ষে ঘুমাতে যান। ভোর ৩টা ৪৫ মিনিটে আওয়াজ শুনে তার মা মঞ্জু দত্ত কক্ষে গিয়ে দেখেন, ছেলের মাথা ও বুকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। প্রতিবেশী ও নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিলেও চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, চুরি করার সময় ধরা পড়ায় তাকে হত্যা করা হয় এবং আসামিরা নগদ ৫ লাখ টাকা ও দুটি স্বর্ণের বালা নিয়ে যায়।
খবরওয়ালা/টিএসএন