খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৮ আগস্ট ২০২৫
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বলী মুজিবুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষককে মারধর করে বাজারে ঘোরানোর ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (১৭ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষক শফিকুর রহমান সাতক্ষীরা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কে এম আজাহারুজ্জামান জানান, এক ছাত্রীকে আলাদাভাবে পড়ানোর অভিযোগ এনে বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মী অফিসকক্ষে ঢুকে শিক্ষক শফিকুর রহমানকে মারধর করেন। এরপর ১০–১২ জন তাকে টেনে বের করে বেধড়ক মারধর করেন এবং বাজারে ঘোরান। একপর্যায়ে তাকে ইউনিয়ন পরিষদে আটকে রাখা হয়। পরে অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা গিয়ে শফিকুর রহমানকে উদ্ধার করে বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনেন। এ সময় বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি অবগত হন এবং পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শিক্ষক শফিকুর রহমানের থানায় দায়ের করা অভিযোগে একই ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য শহিনুর রহমান, মো. কামরুজ্জামান, রবিউল ইসলাম, ইউপি বিএনপির সাবেক সভাপতি সেলিম আক্তার, বিএনপি কর্মী আব্দুল গনি, ইউপি সদস্য আব্দুর রইচ, ইসলাম কবিরাজ, বলী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুজ্জামানসহ কয়েকজনের নাম রয়েছে।
এ বিষয়ে বলী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি সেলিম আক্তার বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষকের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনের ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। পরে সাতক্ষীরা সদরের নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি শোনেন। তার দাবি, তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। তবে তিনি জানান, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে পূর্বেও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছিল।
বলী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদুজ্জামান জানান, শিক্ষক শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে আগেও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল। শনিবার নতুন করে অভিযোগ পাওয়ায় তিনি ও কয়েকজন বিদ্যালয়ে গেলে উত্তেজিত জনতা শিক্ষককে টেনে বের করে। তবে তিনি দাবি করেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হন।
সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি শামিনুল হক বলেন, শিক্ষক শফিকুর রহমান একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিদ্যালয়ের সভাপতি ও সাতক্ষীরা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শোয়াইব আহমাদ জানান, তিনি দুই পক্ষকে ডেকে বিষয়টি শুনেছেন এবং শিক্ষক শফিকুর রহমানকে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, যদি শিক্ষকের কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয় তবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খবরওয়ালা/টিএসএন