খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: 3শে ভাদ্র ১৪৩২ | ১৮ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় নিহত শুটার মান্নান ও হৃদয় বাঘ হত্যাকাণ্ডে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি লালু, সৈকতসহ তাদের আত্মীয়-স্বজনদের আটটি বসতঘরে প্রতিপক্ষের লোকজন আগুন দিয়েছেন।
রবিবার (১৭ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে ইমামপুর ইউনিয়নের হোগলাকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে গজারিয়া ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ শুরু করে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জুলাই সকাল ১০টার দিকে মেঘনা নদীর বড় কালীপুরা এলাকায় প্রতিপক্ষ লালু-পিয়াস গ্রুপের গুলিতে নিহত হন গজারিয়া শীর্ষ সন্ত্রাসী শুটার মান্নান। এ ঘটনায় হৃদয় বাগসহ আহত হন আরও ৬ জন। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে হাসাপাতালের আইসিইতে ১৯ দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ আগস্ট শনিবার বিকেলে মারা যান হৃদয়।
এদিকে রবিবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে জানাজা শেষে তাকে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ ঘটনার কিছু সময় পর নিহত হৃদয় বাগের সমর্থকরা আগুন জ্বালিয়ে দেয় হত্যা মামলার অন্যতম আসামি লালু, সৈকত ও তার আত্মীয় স্বজনের আটটি বসতঘরে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিস।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ও নিহত হৃদয় বাগের আত্নীয় আমিরুল ইসলাম বলেন, লালু একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তার অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। সে মান্নান ও হৃদয় বাগ হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড। এলাকাবাসী তাদের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলো।
গজারিয়া ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মোহাম্মদ আলী রাতে বলেন, আট বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে ৫টি একেবারে পুড়ে গেছে এবং ৩টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে।
অভিযুক্ত লালুর মা সানোয়ারা বেগম বলেন, হামলাকারীরা লালু, তার বড় ভাই সানাউল্লাহ, সাইফুল্লাহ, ছোট ভাই হেদায়েতুল্লাহ, শ্বশুর জহিরুল ইসলামের ঘরসহ মোট আটটি ঘরে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন আসার আগেই সব পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তারা মব সৃষ্টি করে আমাদের লোকজনকে আগুনে পুড়িয়ে মারতে চেয়েছিল।
এ প্রসঙ্গে গজারিয়া থানার ওসি মো. আনোয়ার আলম আজাদ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি সেনাবাহিনীকে জানানো হয়েছে।
খবরওয়ালা/এমইউ