খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৮ আগস্ট ২০২৫
জাতীয় শোক দিবসে ধানমন্ডি ৩২-এ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসা সাধারণ মানুষ, শিল্পী, সাংবাদিক ও বিশিষ্টজনদের উপর হামলা, বাধা ও হয়রানির ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিষদ।
শনিবার (১৮ আগস্ট) এক বিবৃতিতে পরিষদ জানায়, ১৫ আগস্ট জাতির শোক ও শ্রদ্ধার দিন। অথচ ধানমন্ডি ৩২-এ সাধারণ মানুষকে আক্রমণ, ভীতি প্রদর্শন এবং বাধা দেওয়া হয়েছে। শিল্পী, লেখক, কবি, সাহিত্যিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করায় তাঁদের হুমকি দেওয়া হয়েছে, অপমানজনক ভাষায় আক্রমণ করা হয়েছে এবং ছবিতে প্রকাশ্যে জুতা নিক্ষেপের মতো জঘন্য ঘটনা ঘটেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, রিকশাশ্রমিক আজিজুলকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সারাদেশে শোক জানাতে আসা নিরীহ মানুষদের বাধা দেওয়া ও গণগ্রেফতার চালানো হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারকে ধানমন্ডি ৩২-এ প্রবেশে বাধা দিয়ে অসম্মান করা হয়েছে। এমনকি বঙ্গবন্ধুর আত্মার মাগফিরাতের জন্য মোনাজাত করতে আসা এক মাওলানাকেও থামিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এসব ঘটনা মানবাধিকার লঙ্ঘন, গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ এবং বাকস্বাধীনতার উপর নগ্ন আঘাত বলে উল্লেখ করে পরিষদ জানায়, শিল্পী সমাজ, শ্রমজীবী মানুষ ও শহীদ পরিবারের উপর আঘাত মানে পুরো জাতির মর্যাদাকে পদদলিত করা। স্বাধীন বাংলাদেশে এমন দমননীতি কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
পরিষদ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে—
১. ধানমন্ডি ৩২-এ হামলা, অপমান ও বাধার দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।
২. শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী ও অভিনেতাদের ওপর হামলার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা।
৩. মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার সকল সাধারণ মানুষের অবিলম্বে মুক্তি।
৪. শহীদ পরিবারকে অসম্মানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা।
৫. বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো ও দোয়া-মোনাজাতে বাধা বন্ধ।
৬. জনগণের শোক প্রকাশ, সমাবেশ ও বাকস্বাধীনতার ওপর দমননীতি বন্ধ।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিষদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে— মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও শহীদ পরিবারের প্রতি অবমাননা মেনে নেওয়া হবে না। যারা দমননীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অপমানের রাজনীতি চালাচ্ছে, তারা ইতিহাসে চিরকাল কলঙ্কিত হয়ে থাকবে।
পরিষদ দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে— ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই দমননীতি, হামলা-মামলা, গণগ্রেফতার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তুলুন। স্বাধীনতার চেতনা ও শোক দিবসের মর্যাদা রক্ষায় সাংস্কৃতিক কর্মী, শ্রমজীবী মানুষ, শহীদ পরিবার ও সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যান।