খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ই আগস্ট ২০২৫, ১১:৪৪ এএম
মানবিক সহায়তার অঙ্গীকারে অটল থেকে শুরু থেকেই ফিলিস্তিনের গাজাবাসীর পাশে রয়েছে মাস্তুল ফাউন্ডেশন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই গাজা ও মিশরে অবস্থানরত শরণার্থীদের জন্য খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসা সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিদিন গাজার ভেতরে ও মিশরের শরণার্থী শিবিরগুলোতে মাস্তুল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে খাদ্য ও পানি বিতরণ চলছে নিরবচ্ছিন্নভাবে।
এই দীর্ঘ মানবিক অভিযাত্রায় মাস্তুলকে পোহাতে হয়েছে নানা প্রতিকূলতা। প্রাণ হারিয়েছেন দুইজন স্বেচ্ছাসেবক, অতিক্রম করতে হয়েছে অসংখ্য বাধা-বিপত্তি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও তীব্র সংকটের মাঝেও মাস্তুল ফাউন্ডেশন ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে দৃঢ়ভাবে, পৌঁছে দিয়েছে বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা ফিলিস্তিনের ঘরে ঘরে।
মানবিক সহায়তার পাশাপাশি বাংলাদেশে অবস্থানরত ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায়ও এগিয়ে এসেছে মাস্তুল ফাউন্ডেশন। গত ৩০ জুলাই ২০২৫ তারিখে ফিলিস্তিন দূতাবাসের সহায়তায় শিক্ষার্থীদের মাঝে আর্থিক অনুদান হস্তান্তর করা হয়। এর আগে, “Stand with Palestine” শীর্ষক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মনোবল বাড়ানো ও সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেয় প্রতিষ্ঠানটি।
মাস্তুল ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও তারা ফিলিস্তিনের পাশে থাকবে। আর্থিক সহায়তা ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি গাজায় পুনর্বাসন প্রকল্প, হাসপাতাল, মাদ্রাসা ও এতিমখানা স্থাপনের পরিকল্পনাও তাদের রয়েছে। তাদের বিশ্বাস, মানবতার এই যুদ্ধে প্রতিটি সহায়তা, প্রতিটি দান ও প্রতিটি প্রচেষ্টা গড়ে তুলবে একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ এবং ফিরিয়ে দেবে গাজার মানুষের মুখে হাসি।
বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধিত সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে মাস্তুল ফাউন্ডেশন এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ ও শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে। উল্লেখযোগ্য উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—করোনা মহামারির সময় দাফন সেবা, ২০২২ ও ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় ত্রাণ বিতরণ, ২০২৩ সালের তুরস্ক ভূমিকম্পে মানবিক সহায়তা প্রদান। “যাকাত স্বাবলম্বী” প্রকল্পের মাধ্যমে অসংখ্য যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন অসহায় মানুষের জন্য একবেলা খাবার সরবরাহ করছে এবং ঢাকার হাজারীবাগ বারইখালি এলাকায় নিজস্ব মাদ্রাসা, সেল্টারহোম, এতিমখানা ও মেহমানখানা পরিচালনা করছে।
খবরওয়ালা/এমএজেড
মন্তব্য