খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট ২০২৫
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে একদিনের ব্যবধানে আবারও ভেসে এলো মৃত ডলফিন। প্রায় ৩ ফুট দৈর্ঘ্যের এ ডলফিনটি ইরাবতী প্রজাতির, যার শরীরের পুরো চামড়া উঠে গেছে।
বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে কুয়াকাটা সৈকতে ডলফিনটি ভেসে আসে বলে নিশ্চিত করেন উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের (উপরা) আহ্বায়ক কে এম বাচ্চু।
তিনি জানান, আগে তুলনায় ডলফিনের মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কমেছে, তবে এখনো মাঝেমধ্যে এমন ঘটনা ঘটছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ছোট-বড় দুটি মৃত ডলফিন পাওয়া গেছে। সরকার ও গবেষণা সংস্থাগুলোকে এ মৃত্যুর কারণ নিয়ে আরও গভীরভাবে অনুসন্ধানের আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, ডলফিন রক্ষা মানে উপকূলের পরিবেশ রক্ষা করা, যা প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের সঙ্গে জড়িত এবং ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য।
ডলফিন শুধু সমুদ্রের প্রাণী নয়, বরং সমুদ্র পরিবেশের স্বাস্থ্য ও ভারসাম্যের গুরুত্বপূর্ণ সূচক। এর উপস্থিতি সমুদ্রের ইকোসিস্টেম সুস্থ রাখে, মাছ ও অন্যান্য জীববৈচিত্র্য সুরক্ষিত করে এবং স্থানীয় পর্যটন ও জীবিকার ক্ষেত্রেও অবদান রাখে।
ওয়ার্ল্ডফিশ-বাংলাদেশের গবেষণা সহকারী বখতিয়ার রহমান বলেন, মৃত ডলফিনটি ইরাবতী প্রজাতির। শরীরে রক্তাক্ত দাগ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, নৌযান, মাছ ধরার যন্ত্র বা জেলেদের কার্যক্রমই মৃত্যুর মূল কারণ। পাশাপাশি নদী ও মোহনার দূষিত পানি, যেমন শিল্প বর্জ্য, প্লাস্টিক ও তেলও বড় হুমকি। তিনি স্থানীয় সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অভয়ারণ্য এলাকায় জাল ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপের আহ্বান জানান।
কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার জানান, উপকূলজুড়ে তারা ডলফিন সংরক্ষণে কাজ করছেন। ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত ৭টি মৃত ডলফিন ভেসে এসেছে সৈকতে। তিনি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান, মৃত্যুর সঠিক কারণ খুঁজে বের করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে।
বনবিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা কে এম মনিরুজ্জামান জানান, ঘটনাস্থলে টিম পাঠানো হয়েছে এবং মৃত ডলফিনটি মাটি চাপা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে যাতে দুর্গন্ধ ছড়াতে না পারে।
খবরওয়ালা/টিএসএন