এবিএম জাকিরুল হক টিটন
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট ২০২৫
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে যে কয়েকটি নাম যুগ যুগ ধরে শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় উচ্চারিত হবে, তাদের অন্যতম নায়করাজ আব্দুর রাজ্জাক। তিনি শুধু একজন অভিনেতা নন—একই সঙ্গে তিনি ছিলেন দর্শকের আবেগ, স্বপ্ন আর আনন্দের প্রতীক।
১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি কলকাতায় জন্ম নিলেও, ভাগ্যের পরিক্রমায় ঢাকাই চলচ্চিত্রেই তিনি খুঁজে পেলেন নিজের স্বপ্নভূমি। প্রাথমিকভাবে মঞ্চ ও থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও সুভাষ দত্ত পরিচালিত সুতরাং চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়েই শুরু হয় তাঁর রুপালি পর্দার রাজত্ব। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
ষাটের দশক থেকে শুরু করে টানা কয়েক দশক তিনি ছিলেন ঢাকাই সিনেমার একচ্ছত্র নায়ক। নীল আকাশের নিচে, বেহুলা, জীবন থেকে নেয়া, ওরা ১১ জন, রংবাজ, অবুঝ মন, আলোর মিছিল, বড় ভালো লোক ছিলসহ অগণিত কালজয়ী ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ে নেয়। প্রেম, সংগ্রাম, দেশপ্রেম কিংবা পারিবারিক টানাপোড়েন—সব চরিত্রে তিনি ছিলেন সমান দক্ষ ও প্রাণবন্ত।
তাঁর সহশিল্পী সুচন্দা, কবরী, ববিতা, শাবানী, সুচরিতা প্রমুখ নায়িকাদের সঙ্গে যুগলবন্দী দর্শককে উপহার দিয়েছে অসংখ্য অমর মুহূর্ত। শুধু নায়ক হিসেবেই নয়, চরিত্রাভিনেতা, প্রযোজক ও পরিচালক হিসেবেও তিনি ছিলেন সফল। তাঁর প্রতিষ্ঠান রাজলক্ষ্মী প্রোডাকশন থেকে নির্মিত বাবা কেন চাকর, সন্তান যখন শত্রু, ঢাকা ৮৬ প্রভৃতি চলচ্চিত্র ছিল দর্শকনন্দিত ও ব্যবসাসফল।
অভিনয় জীবনে প্রায় ৩০০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন রাজ্জাক। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ৬ বার অর্জনের পাশাপাশি ২০১৫ সালে তিনি পান দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান স্বাধীনতা পুরস্কার। আজীবন সম্মাননা ও অসংখ্য পুরস্কার তাঁর শিল্পভুবনের মহিমাকে আরও সমুজ্জ্বল করেছে।
২০১৭ সালের ২১ আগস্ট তিনি মহাপ্রয়াণ করেন। কিন্তু তাঁর চলে যাওয়ায় ফাঁকা হয়নি মঞ্চ; বরং স্মৃতির পর্দায় তিনি আজও জীবন্ত। কারণ নায়করাজ কেবল পর্দার নায়ক ছিলেন না, তিনি ছিলেন কোটি দর্শকের স্বপ্নের সহযাত্রী।
নায়করাজ রাজ্জাক বেঁচে আছেন আমাদের হৃদয়ে, সিনেমার আলো-ছায়ার ইতিহাসে। তাঁর অবদান চিরকাল অমলিন থাকবে বাঙালি সংস্কৃতির অঙ্গনে।
আজ এই দিনে তাঁর প্রতি অতল শ্রদ্ধাঞ্জলী।
খবরওয়ালা/এমএজেড