খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 6শে ভাদ্র ১৪৩২ | ২১ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জের পর্যটন এলাকা ‘সাদাপাথর’-এ সংঘটিত নজিরবিহীন পাথর লুটের ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মোট ৫২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা শনাক্ত করেছে। এতে সরকারি দপ্তর, রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই ঘটনায় চারজন সাবেক ইউএনও, পুলিশ, বিজিবি ও খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর কর্মকর্তাদের অবহেলা ছিল স্পষ্ট। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় প্রশাসনের অসাধু যোগসাজশ ও রাজনৈতিক নেতাদের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ ভূমিকা ছাড়া এত বড় দুর্নীতি সম্ভব হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিএনপির ২০ জন, আওয়ামী লীগের ৭ জন, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ২ জন করে নেতা সরাসরি পাথর চুরির সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ের আরও ১১ জন ব্যক্তি, মাদরাসা শিক্ষক ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নামও এসেছে তালিকায়।
দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম ১৩ আগস্ট সাদাপাথর এলাকায় অভিযান চালায়। ওই সময় কয়েকশ কোটি টাকার পাথর লুটের প্রমাণ মেলে। ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন জরুরি সভা করে এবং যৌথবাহিনী লুট হওয়া পাথর উদ্ধারে অভিযান শুরু করে।
দুদকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এই লুটের মাধ্যমে সুবিধা নিয়েছে, তারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত। এছাড়া কয়েকজন সাংবাদিক ও পেশাজীবীর নামও তদন্তে উঠে এসেছে, যা এখন যাচাই-বাছাই চলছে।
তবে বিএনপি নেতারা এই প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়ে একে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন। সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই আমাদের নাম তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। এটি রাজনৈতিকভাবে হেয় করার ষড়যন্ত্র।’
একইভাবে জামায়াতে ইসলামীর নেতারাও অভিযোগ করেন, তাদের দলের কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়। তারা দাবি করেন, ‘সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।’
দুদক সূত্র জানিয়েছে, বিস্তারিত অনুসন্ধানের জন্য কমিশনের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অনুমোদন মিললেই আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হবে এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের নাম
বিএনপি (২০ জন):
রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সাহাব উদ্দিন, হাজী কামাল, লাল মিয়া, সাজ্জাদ হোসেন দুদু, রুবেল আহমেদ বাহার, মুসতাকিন আহমদ ফরহাদ, মো. দুলাল মিয়া, রজন মিয়া, জসিম উদ্দিন, সাজন মিয়া, জাকির হোসেন, মোজাফর আলী, মানিক মিয়া, মো. মকসুদ আহমদ, রফিকুল ইসলাম শাহপরাণ, শাহ আলম স্বপন, আবুল কাশেম, আমজাদ বকস।
আওয়ামী লীগ (৭ জন):
বিলাল মিয়া, শাহাবুদ্দিন, গিয়াস উদ্দিন, আবদুল ওদুদ আলফু, মনির মিয়া, হাবিল মিয়া, সাইদুর রহমান।
জামায়াত ও এনসিপি (৪ জন):
মো. ফখরুল ইসলাম, জয়নাল আবেদীন, নাজিম উদ্দিন, আবু সাদেক মো. খায়রুল ইসলাম চৌধুরী।
অন্যান্য (১১ জন):
আনর আলী, উসমান খাঁ, ইকবাল হোসেন আরিফ, দেলোয়ার হোসেন জীবন, আরজান মিয়া, জাকির (দুলা মেম্বারের ছেলে), আলী আকবর, আলী আব্বাস, মো. জুয়েল, আলমগীর আলম (ইউপি চেয়ারম্যান), মুকাররিম আহমেদ (মাদরাসা শিক্ষক)।
খবরওয়ালা/শরিফ