খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৫
দেশের নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। অনেক কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও তারা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, ফলে অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ বাড়ছে।
নিয়ম অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটির মূল কাজ রুটিন দায়িত্ব পালন করা। কিন্তু বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনহীন নিয়োগ ও অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুতির ঘটনা ঘটছে। শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, নির্বাচনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন ছাড়া শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব নয়।
গত বছরের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর ২০ আগস্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা বিভাগীয় কমিশনারদের সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ২১ নভেম্বরের নতুন নির্দেশনায় অ্যাডহক কমিটি বহাল রাখার কথা বলা হয় এবং পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া স্থগিত থাকে।
ফলে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিও দায়িত্ব পালন করছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার বিধি অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ ছয় মাস হলেও অনেক প্রতিষ্ঠান এই সীমা অতিক্রম করেছে।
রাজধানীর বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান জানান, বর্তমান অ্যাডহক কমিটিতে প্রভাবশালী দলীয়দের সভাপতি ও অভিভাবক প্রতিনিধি করার জন্য চাপ বাড়ছে। এতে কমিটিগুলো আগের তুলনায় আরও দলীয়করণ হচ্ছে।
সম্প্রতি রাজধানীর শেরেবাংলা বালিকা মহাবিদ্যালয়ের মেয়াদহীন অ্যাডহক কমিটি দুই দফায় ১২ জন শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করেছে। একই সঙ্গে ৫৮ জন খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ১৪ জনের নিয়োগ পরীক্ষা নিয়েছে। অথচ এই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ২৭ জুলাই, তবে আগস্ট মাসেও নিয়োগ ও চাকরিচ্যুতি চলছে।
আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দকার এহসানুল কবির বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম সচল রাখতে অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ বাড়ানো হবে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের আগ পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালন করবে।’
খবরওয়ালা /এমএজেড