খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৭ আগস্ট ২০২৫
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন পতাকা পোড়ানো রোধে একটি নতুন নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন। এই আদেশে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোকে পতাকা পোড়ানোর ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং অভিবাসীদের ক্ষেত্রে এই অপরাধে ভিসা বাতিল করার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে, ট্রাম্পের এ পদক্ষেপের ঠিক পরেই গত সোমবার সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসের বিপরীত দিকে একজন ব্যক্তি মার্কিন পতাকায় আগুন ধরান। এএফপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পতাকা পোড়ানো ওই ব্যক্তি মূলত ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এ কাজটি করেন। তিনি লাফায়েত স্কয়ার থেকে গ্রেপ্তার হন। তবে, তাকে পতাকা পোড়ানোর অপরাধে বা ট্রাম্পের আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়নি। বরং, ফেডারেল পার্কে আগুন জ্বালানোর বিদ্যমান আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
আইনি দিক থেকে মার্কিন পতাকা পোড়ানো সংবিধানের প্রথম সংশোধনী অনুযায়ী বাক্স্বাধীনতার অংশ। ১৯৮৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে এই বিষয়টি নিশ্চিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৮৪ সালে গ্রেগরি লি জনসন পারমাণবিক যুদ্ধ এবং রিপাবলিকান নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে একটি মার্কিন পতাকায় আগুন ধরান। তৎকালীন টেক্সাসের আইন অনুযায়ী তিনি এক বছরের কারাদণ্ড এবং ২ হাজার ডলার জরিমানা পান। তবে সুপ্রিম কোর্ট মামলায় রায় দেন, ‘পতাকার অবমাননার জন্য শাস্তি দিয়ে আমরা পতাকাকে পবিত্র করি না, বরং আমরা সেই স্বাধীনতার মূল্যকে ক্ষুণ্ন করি, যা এই প্রতীকী অভিব্যক্তি ধারণ করে।’ ৫-৪ সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ের পর ৪৮টি রাজ্যে পতাকা অবমাননার আইন বাতিল হয়ে যায়।
ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশটি সুপ্রিম কোর্টের রায়কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ না করলেও বিদ্যমান আইন ব্যবহার করে পতাকা পোড়ানোকে অন্য অপরাধ যেমন সহিংসতা, সম্পত্তি ধ্বংস বা বিশৃঙ্খলার সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করেছে। এছাড়াও, এটি অভিবাসীদের জন্য ভিসা বাতিল ও বিতাড়নের পথ খুলে দিতে পারে।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধুমাত্র পতাকা পোড়ানোর জন্য কাউকে শাস্তি দেওয়া সম্ভব নয়। তবে যদি পতাকা পোড়ানোর সঙ্গে অন্য কোনো অপরাধ যুক্ত থাকে, তাহলে সেই অপরাধের জন্য আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সিভিল লিবার্টিজ গ্রুপসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান মামলা করতে পারে।
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন পতাকা পোড়ানোর বিরুদ্ধে কঠোর নীতি তার রাজনৈতিক সমর্থকদের মধ্যে জনপ্রিয়। তাঁর প্রথম মেয়াদে তিনি পতাকা অবমাননার জন্য সাংবিধানিক সংশোধনের প্রস্তাব করেছিলেন, যা ব্যর্থ হয়। সম্প্রতি তিনি মন্তব্য করেছেন, পতাকা পোড়ানো ‘দাঙ্গা উসকে দেয়’ এবং যারা এই কাজ করবেন তাদের এক বছরের কারাদণ্ড হওয়া উচিত।
উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টে এখন রক্ষণশীল বিচারকদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, যার মধ্যে ট্রাম্পের নিয়োগ করা তিনজন বিচারপতিও আছেন। ফলে এই বিষয়ের ওপর নতুন কোনো মামলা আদালতে গেলে রায় পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
খবরওয়ালা/শরিফ