খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
মাদারীপুরের কালকিনিতে নাকের সামনে চেতনানাশক দিয়ে অজ্ঞান করে ৮ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ করে প্রতিবেশী সোহাগ শিকদার। এই ঘটনার কথা কাউকে বললে পুরো পরিবারকে হত্যার হুমকি দিয়ে পালিয়ে যান তিনি।
স্বজন ও এলাকাবাসী জানায়, শুক্রবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে মাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভার পশ্চিম পাঙ্গাশিয়া গ্রামের আক্কেল শিকদারের ছেলে সোহাগ শিকদার নিজ ঘরে ডেকে নেয় প্রতিবেশী মেয়েটিকে।
পরে শিশুটির নাকের সামনে চেতনানাশক দিয়ে অজ্ঞান করে সে। দরজা বন্ধ করে ৩য় শ্রেণিতে পড়ুয়া শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে সোহাগের বিরুদ্ধে। তিন ঘণ্টা পর জ্ঞান ফিরলে বিষয়টি কাউকে জানালে মেয়েটি ও তার পরিবারকে হত্যার হুমকি দেয় অভিযুক্ত। পরে বাড়িতে চলে আসে নির্যাতিতা।
রবিবার দুপুরে প্রচুর রক্তক্ষরণ হলে প্রথমে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে বিকেলে ভর্তি করা হয় মাদারীপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে।
নির্যাতিতার মা বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে থানা পুলিশ করতে চাই না। তাহলে সোহাগ ও তার লোকজন আমাদের মেরে ফেলবে। খুব ভয়ে আছি। এ ঘটনার বিচার পাব কিনা তাও জানি না।’
শিশুটি জানায়, ‘ঘরে ডেকে নিয়ে মুহূর্তেই তাকে অচেতন করে সোহাগ শিকদার। পরে ধর্ষণ করে মেয়েটিকে। ঘটনা কাউকে বললে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। প্রচণ্ড ব্যথা আর যন্ত্রণা হলে মেয়েটি মায়ের কাছে বিষয়টি জানায়। পরে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে।’
মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সিহাব চৌধুরী বলেন, ‘শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও দেওয়া হয়েছে। গাইনি চিকিৎসকের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মেডিক্যাল টিম গঠন করে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।’
মাদারীপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, ‘দুই দিন আগের ঘটনা। বিষয়টি জানাজানি হলে হাসপাতালে যায় পুলিশ। পরে মেয়েটির সঙ্গে কথা বললে ঘটনার প্রাথমিকভাবে সত্যতা পাওয়া যায়। এই ঘটনায় অবশ্যই মামলা হবে। আর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারও করা হবে। যদি নির্যাতিতার পরিবারকে কেউ হুমকি দেয় তাদের নিরাপত্তার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
খবরওয়ালা/এমইউ