এবিএম জাকিরুল হক টিটন
প্রকাশ: বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার সবচেয়ে দৃঢ় ভিত্তি আমাদের সেনাবাহিনী। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে জন্ম নেওয়া এই বাহিনী শুধু দেশের সীমানা রক্ষা করেনি, বরং দুর্যোগ-দুর্বিপাকে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অসামান্য অবদান রেখে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের সুনাম উজ্জ্বল করেছে।
কিন্তু আজ এই সেনাবাহিনীই কিছু দুষ্কৃতকারী, জঙ্গি এবং অবৈধ অস্ত্রধারী ও কিছু হট্ৎ গজিয়ে উঠা ভুঁইফোড় সংগঠন ও গোষ্ঠীর টার্গেটে পরিণত হয়েছে । সম্প্রতি সেনাপ্রধানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান ও অবমাননাকর মন্তব্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য একটাই—সেনাবাহিনীকে হেয় করে দেশের ভেতরে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা এবং আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা। প্রশ্ন জাগে, কারা এর নেপথ্যে? উত্তর স্পষ্ট—যারা রাষ্ট্রকে দুর্বল করতে চায়, যারা অবৈধ শক্তির জোরে ক্ষমতার ভাগ চায়, তারাই সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে এই ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
স্বাধীনতার পর থেকে দেশের প্রধান রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ কখনো সেনাবাহিনীকে অসম্মান করেননি। তাঁরা জানতেন, সেনাবাহিনীই রাষ্ট্রের মূল শক্তি ও ভরসা। অথচ আজ নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি, মৌলবাদী ও উগ্রবাদী গোষ্ঠী রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে সেনাপ্রধানকে লক্ষ্য করে অশালীন স্লোগান দিচ্ছে অবান্তর মন্তব্য করেছে। তাদের উদ্দেশ্য খুবই স্পষ্ট—দেশের সেনাবাহিনীকে দুর্বল করা। কারণ তারা জানে, সেনাবাহিনী দুর্বল হলে রাষ্ট্র অস্থিতিশীল হবে, আর সেই ভাঙনের সুযোগে তারা দেশে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও অবৈধ অস্ত্রের রাজত্ব কায়েম করতে পারবে।
আর এসব ষড়যন্ত্রের ভয়াবহ পরিণতি ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যে সব দেশে সেনাবাহিনীর প্রতি আস্থা নষ্ট করা হয়েছে, সেসব দেশ অল্প সময়েই ভেঙে পড়েছে। আফগানিস্তান, সোমালিয়া কিংবা সুদানের উদাহরণ চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়—সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার ফল কতটা ভয়াবহ হতে পারে। আজ বাংলাদেশে সেই একই নীলনকশা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। সেনাপ্রধানকে নিয়ে লাগামহীন মন্তব্য আসলে জঙ্গি ও অবৈধ অস্ত্রধারী গোষ্ঠীর পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রেরই অংশ।
এই কঠিন ও অস্থির সময়ে জনগণের দায়িত্ব ও কর্তব্য
প্রতিটি নাগরিককে বুঝতে হবে—সেনাবাহিনীকে হেয় করা মানে গোটা রাষ্ট্রকে হেয় করা। সেনাবাহিনী দুর্বল হলে জাতীয় নিরাপত্তা বিপন্ন হবে, স্বাধীনতা ঝুঁকির মুখে পড়বে। তাই দেশপ্রেমিক নাগরিকদের এখনই সজাগ হতে হবে। জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের এই অপচেষ্টা রুখে দিতে হবে। সেনাবাহিনীর প্রতি আস্থা, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রদর্শন করতে হবে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কেবল একটি বাহিনী নয়—এটি জাতির আস্থা, স্বাধীনতার রক্ষাকবচ। যারা সেনাপ্রধানকে তথা সেনাবাহিনীকে অবমাননা করছে, তারা আসলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের শত্রু। তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলাই হবে আমাদের দায়িত্ব।
সবশেষে এটিই বলার যে, সেনাবাহিনীকে সম্মান দেওয়া মানে বাংলাদেশকে সম্মান দেওয়া। আর সেনাবাহিনীকে হেয় করার যেকোনো অপচেষ্টা মানে দেশকে বিক্রি করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র। তাই এখন সময় এসেছে—ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচন করার, দেশ প্রেমিকদের জাতীয় ঐক্যের শক্তি দিয়ে তাদের প্রতিহত করার।
লেখক: সম্পাদক ও প্রকাশক, খবরওয়ালা