খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় আপন চাচির হাতে নির্মমভাবে নিহত হয়েছে তিন বছরের শিশু তাসনূভা তাবাসসুম।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে পাঞ্চাইল গ্রামের একটি পুকুর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, বুধবার নিখোঁজ হয় ট্রলি চালক রুবেল মিয়ার মেয়ে তাসনূভা। পরিবারের খোঁজাখুঁজির পর বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বাড়ির পুকুরে ভেসে ওঠে তার মরদেহ। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। শিশুর চাচা রিপন মিয়ার তথ্যে তার স্ত্রী সাথী আক্তারের সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
পরে গ্রেপ্তার হওয়া সাথী আক্তার পুলিশকে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে বলেন, ‘গত বুধবার দুপুরে রান্নাঘরে ভাতের মাড় ফেলার সময় গরম মাড় শিশুর গায়ে গিয়ে তাকে পুড়িয়ে দেয়। এতে তাসনূভা ব্যথায় চিৎকার শুরু করলে বিরক্ত হয়ে আমি তার গলা টিপে ধরি। এতে সে অচেতন হয়ে যায়। এরপর আমি মরদেহ একটি পাতিলে ভরে ঘরের সিলিংয়ে লুকিয়ে রাখি। একদিন পর দুর্গন্ধ ছড়ালে মরদেহ বস্তায় ভরে রাতে পুকুরে ফেলে দিই।’
চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, এটি একটি নির্মম ও পাষণ্ড হত্যাকাণ্ড। তিনি আরও বলেন, ‘আরেকটি শিশুর মা হয়েও ওই নারী যে অপরাধ করেছেন, তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে তদন্ত শেষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাতে এ ধরনের নৃশংসতা আর না ঘটে।’
নিহত শিশুর বাবা রুবেল মিয়া বাদী হয়ে শাহরাস্তি থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় সাথী আক্তারকে আসামি এবং তার স্বামী রিপন মিয়াকে সাক্ষী করা হয়েছে।
আবেগাপ্লুত শিশুটির বাবা বলেন, ‘আমার ছোট্ট মেয়ে তার চাচিকে মা বলে ডাকত। অথচ সেই মা-ই আমার সন্তানের জীবন কেড়ে নিলো।’ মা বিলকিস আক্তার জানান, ‘আর যেন কোনো মায়ের বুক এভাবে খালি না করে কোনো নারী।’
স্থানীয়রা জানান, নিহত তাসনূভার বাবা রুবেল মিয়া ট্রলি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন এবং চাচা রিপন মিয়া ফার্নিচার কারখানায় কাজ করেন। দুই পরিবারের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা থাকলেও এমন ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
খবরওয়ালা/শরিফ