খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
আজ ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর মৃত্যুবার্ষিকী। বাংলা ও ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ইতিহাসে তিনি এমন এক নাম, যিনি শুধু একজন শিল্পী ছিলেন না—ছিলেন এক পূর্ণাঙ্গ সাধক, গুরু ও সঙ্গীতসাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর জীবন, সাধনা ও উত্তরাধিকার আজও সঙ্গীতপ্রেমীদের কাছে অনন্য এক দিশারী।
ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ জন্মগ্রহণ করেন ১৮৬২ সালের এপ্রিল মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিবপুর গ্রামে। ছোটবেলা থেকেই তাঁর ভেতরে সঙ্গীতের প্রতি গভীর অনুরাগ ছিল। পরিবারে কঠোর বিরোধিতা থাকা সত্ত্বেও তিনি পালিয়ে গিয়ে সঙ্গীতকে জীবনের একমাত্র সাধনা হিসেবে গ্রহণ করেন। অল্প বয়সে ঢাকায় আসেন, পরে কলকাতায় গিয়ে নিজের সাধনার পথ সুদৃঢ় করেন।
তাঁর গুরু ছিলেন বিখ্যাত ওস্তাদ ওয়াজির খান, যিনি রামপুর দরবারে তানসেনের বংশধর। গুরুজির কাছ থেকে শেখার পর আলাউদ্দিন খাঁ শুধু সঙ্গীতে পাণ্ডিত্য অর্জনই করেননি, গড়ে তোলেন এক নতুন ধারা। তিনি মাইহার ঘরানার জনক হিসেবে খ্যাত। একসময় মাইহার রাজবাড়িতে রাজসঙ্গীতজ্ঞ হিসেবে নিয়োজিত হন এবং সেখানে গড়ে তোলেন ‘মাইহার ব্যান্ড’, যা ছিল ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত ও পাশ্চাত্য বাদ্যের সমন্বয়ে এক অসাধারণ সৃজনশীল উদ্যোগ।
ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর বাজনায় ছিল গভীর ধ্যানমগ্নতা। তিনি বিশ্বাস করতেন সঙ্গীত হলো আত্মার আরাধনা, প্রার্থনার সমান। সরোদ, সেতার, সুরবাহার, বাঁশি থেকে শুরু করে অগণিত বাদ্যযন্ত্রে তাঁর ছিল দক্ষতা। নতুন রাগ রচনা ও সঙ্গীতকে জীবনের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়াই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য।
ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর গড়ে তোলা শিষ্যপরম্পরা আজও বিশ্বসঙ্গীতে আলো ছড়াচ্ছে। তাঁর পুত্র ওস্তাদ আলী আকবর খাঁ, কন্যা অন্নপূর্ণা দেবী, জামাতা পণ্ডিত রবিশঙ্কর, শিষ্য নিকোলাস স্লোনিমস্কি প্রমুখ বিশ্বব্যাপী শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের আলো ছড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁদের হাতে ভারতীয় সঙ্গীত আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নতুন মর্যাদা লাভ করে।
১৯৭২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর এই মহান সঙ্গীতগুরু প্রয়াত হন। আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁকে স্মরণ করলে কেবল একজন সঙ্গীতজ্ঞকে নয়, এক মহাসাধককে শ্রদ্ধা জানানো হয়, যিনি সঙ্গীতকে ভক্তিরূপে গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর সাধনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সঙ্গীত শুধু বিনোদন নয়, এটি আত্মার মুক্তির পথও হতে পারে।
ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর জীবন ছিল সংগ্রামের, কিন্তু সেই সংগ্রামেই তিনি খুঁজে পেয়েছিলেন সঙ্গীতের মুক্তি। আজকের দিনে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা বলতে চাই, তিনি শুধু বাংলার গর্ব নন, সমগ্র বিশ্বের জন্য এক অমূল্য ধ্রুবতারা।
আপনি চাইলে আমি এটিকে আরও দীর্ঘ ফিচারে (প্রায় দুই ফর্মার সমান) বিস্তৃত করতে পারি, যেখানে তাঁর মাইহার ব্যান্ড, বাদ্যযন্ত্র উদ্ভাবন, ব্যক্তিগত জীবন ও গুরু-শিষ্য সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত যোগ করা হবে। চাইলে কি আমি সেটা করে দেব?
খবরওয়ালা/এমএজেড