খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
দেশের প্রখ্যাত চিন্তক, প্রবীণ রাজনীতিক ও তাত্ত্বিক বদরুদ্দীন উমর রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ৫ মিনিটে মারা গেছেন। জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হাকিম লালা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, অসুস্থ অবস্থায় বাসা থেকে স্পেশালাইজড হাসপাতালে আনার পর তার মৃত্যু হয়।
বদরুদ্দীন উমর ছিলেন একজন বামপন্থি রাজনীতিবিদ, লেখক, গবেষক ও বুদ্ধিজীবী। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে তার বিশ্লেষণমূলক লেখালেখির জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত। তিনি ১৯৩১ সালের ২০ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।
তার উল্লেখযোগ্য গবেষণামূলক কাজের মধ্যে রয়েছে ‘পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি’ (তিন খণ্ডে), ‘সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা’, ‘পূর্ব পাকিস্তানের ভাষা ও সংস্কৃতি’ ইত্যাদি।
তার বাবা আবুল হাশিম ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের একজন সংগঠক এবং মুসলিম লীগের প্রগতিশীল অংশের নেতা ছিলেন। ১৯৫০ সালে তাদের পরিবার ঢাকায় চলে আসে এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তার বাবা সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। বদরুদ্দীন উমর নিজেও পরে এই আন্দোলন নিয়ে গভীর গবেষণা করেন।
১৯৫৬ সালে চট্টগ্রাম কলেজে শিক্ষকতা শুরু করার পর তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। ১৯৫৯ সালে তিনি বৃত্তি নিয়ে ইংল্যান্ডে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। ১৯৬৮ সালে তিনি শিক্ষকতা ছেড়ে সরাসরি বিপ্লবী রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৭০ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত তিনি পার্টির মুখপত্র গণশক্তি সম্পাদনা করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মতাদর্শগত কারণে তিনি পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি (ইপিসিপি) থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর তিনি বিভিন্ন সংগঠন যেমন বাঙলাদেশ লেখক শিবির, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল ইত্যাদির মাধ্যমে তার কার্যক্রম চালিয়ে যান।
বদরুদ্দীন উমর তার আত্মজীবনী ‘আমার জীবন’ গ্রন্থে লিখেছেন, তিনি ১৯৩১ সালের ২০ ডিসেম্বর পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
চলতি বছর সরকার তাকে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করলেও তিনি তা ফিরিয়ে দেন। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, ১৯৭৩ সাল থেকে তিনি কোনো সরকারি বা বেসরকারি পুরস্কার গ্রহণ করেননি। তাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেওয়া এই পুরস্কারও তার পক্ষে গ্রহণ করা সম্ভব নয়।
খবরওয়ালা/টিএসএন