খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
বগুড়ায় পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে শাকিল খন্দকার (৪১) নামের এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা সদরের ইসলামপুর তেলিপুকুর এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ হামলায় গুরুতর আহত তার ভাগনে তৌফিক ইসলামকে (৩২) বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার দুপুরে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির জানান, এই ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, নিহত শাকিল খন্দকার বগুড়া সদরের ছিলিমপুর মিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে যুবলীগ নেতা বিপ্লব হত্যাসহ বেশ কয়েকটি মামলা ছিল। স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তার ও বালুর ব্যবসা নিয়ে শাকিলের সঙ্গে শামীম ও পলাশের বিরোধ চলছিল। শুক্রবার রাতে জমি কেনাবেচার পাওনা দেড় লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলে তার আত্মীয় সুজন শাকিলকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তাকে তেলিপুকুর গ্যাসপাম্পের পেছনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর পলাশ ও শামীমের নেতৃত্বে প্রায় ৪০ জন সহযোগী প্রথমে শাকিলের ভাগনে তৌফিককে মারধর করে। একপর্যায়ে তারা শাকিলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে তিনি পালিয়ে যান। এসময় তার দুই ছেলে আপন (২৫) ও অপূর্ব (২২) আহত হন।
এদিকে, শাকিলের ছেলে আপন ও অপূর্ব এবং ভাগনে তৌফিককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা মব সৃষ্টি করে উল্টো শাকিলের ছেলে জয়ের হাতে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে পুলিশে সোপর্দ করে। শনিবার সকালে তেলিপুকুর এলাকার একটি ধানক্ষেতে শাকিলের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পাওয়া গেলে পুলিশ তা উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শজিমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
নিহত শাকিলের চাচাতো ভাই মিরাজ খন্দকার জানান, পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে শাকিলকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর জানান, এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খবরওয়ালা/টিএসএন