খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
নোয়াখালীর হাতিয়ায় প্রতিশ্রুত ঋণ না দেওয়ায় ‘হীড বাংলাদেশ’ নামক একটি এনজিওর কার্যালয়ে বিষপান করে শংকর সাহা নামে এক ঋণগ্রহীতার মৃত্যু হয়েছে। অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, এনজিওর কর্মীরা শংকরকে ঋণ না দিয়ে বরং বিষ খাইয়ে হত্যা করেছে।
মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) সকালে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে, সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে হাতিয়া থানা পুলিশ।
নিহত শংকর সাহা হাতিয়ার চরঈশ্বর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের শশী চন্দ্র সাহার পুত্র এবং তিনি দুই সন্তানের জনক।
স্থানীয় সূত্রমতে, দিনমজুর শংকর সাহা পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি ছিলেন। পরিবারের অভাব মেটাতে তিনি প্রায় ৮-৯ মাস আগে ‘হীড বাংলাদেশ’ এনজিওর ওছখালি শাখা থেকে ১২.৫ শতাংশ সুদে ২ লাখ টাকা ঋণ নেন। ঋণ নেওয়ার সময় তাকে জানানো হয়েছিল যে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা পরিশোধ করলে তাকে আরও ২ লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হবে।
নিহতের স্ত্রী রিংকু সাহা অভিযোগ করে বলেন, “এনজিও থেকে নেওয়া ২ লাখ টাকা পরিশোধ করার পর সোমবার বিকেল ৪টার দিকে শংকর পুনরায় ঋণের জন্য যায়। এর আগেও দুবার গিয়ে সে খালি হাতে ফিরে এসেছিল। আজ বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শংকর আমাকে মোবাইলে জানায় যে হীড কর্মকর্তারা তাকে ঋণ দেবে না এবং তাকে অপমানজনক কথা বলছে। এরপর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে অফিসের একটি মোবাইল থেকে আমার ছেলে হৃদয় সাহাকে জানানো হয় যে শংকর বিষ পান করেছে এবং তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “এনজিওর কর্মকর্তারা ঋণ না দিয়ে শংকরকে অপমান ও মানসিক চাপ দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত তারা অফিসে যাওয়ার পর শংকরকে বিষ খাইয়ে হত্যা করেছে।” তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
‘হীড বাংলাদেশ’ ওছখালি শাখার এরিয়া ম্যানেজার অলক কুমার হালদার বলেন, “শংকর ২ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ১১ কিস্তির মধ্যে ১০ মাসের কিস্তি পরিশোধ করেছিলেন। আগামী অক্টোবর মাসে তার ২০ হাজার টাকা কিস্তি বাকি ছিল। সে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট সময়ে কিস্তি পরিশোধ করতে পারত না। এর মধ্যে কয়েকদিন আগে তার শ্বশুরবাড়ির আত্মীয় পরিচয় দিয়ে আমাদের এক মাঠকর্মীকে জানানো হয় যেন শংকরকে নতুন করে ঋণ না দেওয়া হয়, কারণ সে ঋণ পরিশোধ করতে পারবে না। তবে ওই ব্যক্তি তার পরিচয় গোপন রেখেছিলেন।”
অভিযোগের বিষয়ে এই কর্মকর্তা আরও বলেন, “শংকর অফিসে আসার আগেই বিষ পান করে এসেছিল। অফিসে আসার আধা ঘণ্টা পর সে আমার ব্যবহৃত বাথরুমে গিয়ে বমি করতে শুরু করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে আমরা দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই। আমাদের অফিস থেকে তাকে বিষ প্রয়োগের কোনো সুযোগ নেই।”
এ বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ওমর ফারুক জানান, “হাসপাতালে আনার পর তার পেট থেকে বিষ বের করা হয়েছিল। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি মারা যান। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে ইঁদুরের ওষুধ বা কীটনাশক সেবনের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।”
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আজমল হুদা বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে নিহতের মরদেহ নেয়। মঙ্গলবার ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর কারণ ও নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
খবরওয়ালা/টিএসএন