খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা ভূমি অফিসে ঘুষ নেওয়া ও নিজস্ব দালাল চক্রের সদস্যের ভিডিও ধারণের সময় সাংবাদিকের মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ সময় সাংবাদিকদের অবরুদ্ধ করে মব সৃষ্টিরও চেষ্টা করা হয়।
বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে উপজেলা ভূমি অফিসে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মাহমুদ হাসান, দৈনিক নয়া দিগন্তের পটুয়াখালী প্রতিনিধি (ডিজিটাল), রাতেই রাঙ্গাবালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ইউনিয়ন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম নিজস্ব দালালের মাধ্যমে অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর হোল্ডিং অনুমোদন, নামজারি ও এমপি ১৪৪-১৪৫ মামলার প্রতিবেদনসহ অন্যান্য ভূমিসেবা নিতে প্রত্যাশীদের কাছ থেকে সরকারি ফি-এর চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ঘুষ নিচ্ছিলেন। কর্মকর্তার নিজস্ব দালালের মাধ্যমে এসব লেনদেন সম্পন্ন করতে হত। রাতে ঘুষের লেনদেন বেশি হওয়ায় ভুক্তভোগীরা সাংবাদিকদের জানান।
মাহমুদ হাসান বলেন, ‘ভুক্তভোগীদের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে গেলে দেখি আল আমিন নামে এক দালালের মাধ্যমে টাকা নিচ্ছেন ওই কর্মকর্তা। এ সময় ভিডিও ধারণ করতে গেলে ক্ষুব্ধ হয়ে আমার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন। এর আগেও আমি এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তরমুজ চাষীদের থেকে চাঁদা নেওয়ার ঘটনায় সংবাদ প্রকাশ করেছি। সে সময়েও তিনি আমাকে মোটা অঙ্কের টাকার মাধ্যমে প্রভাবিত করতে চেয়েছিলেন কিন্তু সফল হতে পারেনি। সেই থেকেই তিনি আমার উপরে হয়তবা ক্ষুব্ধ।’
বিজয় টেলিভিশনের রাঙ্গাবালী প্রতিনিধি একেএম রাকিব হোসাইন বলেন, ‘ঘুষ গ্রহণের ভিডিও ধারণ ও দালালের বক্তব্য নেওয়ার সময় ভূমি কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম নয়া দিগন্তের প্রতিনিধি মাহমুদ হাসানের মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। একই সময়ে মব সৃষ্টির জন্য তার দালালদের ডেকে অফিসের মূল গেট তালাবদ্ধ করারও চেষ্টা করেন তিনি। পুরো বিষয়টি ভিডিও চিত্রে ধারণ করা হয়েছে।’
ভূমি কর্মকর্তার গঠিত নিজস্ব দালাল চক্রের অন্যতম সদস্য আল আমিনের ভিডিও মন্তব্য নেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তিনি দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। অভিযোগ রয়েছে, ভূমি কর্মকর্তার অন্তত ৫-৮ জন সক্রিয় দালাল রয়েছে। এদের মাধ্যমে কোনো ফাইল তার টেবিলে গেলে দ্রুত কাজ হয়; না হলে সেবা প্রত্যাশীদের বারান্দায় বারান্দায় ঘুরতে হয়।
ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, ‘সরি ভাই, সরি। ভাই কালকে আমার মনটাও ভালো ছিল না। আমার ভুল হয়ে গেছে। মানুষ মাত্রই ভুল করে। সব বিষয় নিয়েই দুঃখ প্রকাশ করতেছি।’
রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার বলেন, নয়া দিগন্তের সাংবাদিক মাহমুদ হাসানের মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে দেখবো।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব দাশ পুরকায়স্থ বলেন, এ বিষয়ে আমাদের দিক থেকে তদন্ত শুরু করেছি। তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেব।
খবরওয়ালা/শরিফ