খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪২ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও জাবির সহকারী অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস মৌমিতা আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন। সহকর্মীদের কাছে সদা হাস্যোজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত মুখ হিসেবে পরিচিত মৌমিতার মৃত্যুতে গভীর শোক নেমে এসেছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও সহকর্মী পোলিং অফিসার ফারহানা আফরিন দ্যুতি ফেসবুকের একটি পোস্টে পোলিং অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌস মৌমিতা মৃত্যুর পূর্বমুহূর্তের ঘটনার একটি বর্ণনা দিয়েছেন।
ফারহানা আফরিন দ্যুতি (সহকারী অধ্যাপক, প্রীতিলতা হল) জানান, ভোট গ্রহণ শেষে পোলিং অফিসারদের ভোট গণনায় থাকতে হবে কি না—এ বিষয়ে প্রথম দিন স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা পাননি তারা। পরদিন সকালে রিটার্নিং অফিসার ও প্রভোস্ট ফোন ও গ্রুপ মেসেজে সবাইকে সিনেট ভবনে যেতে বলেন।
সকাল সাড়ে ৭টার পর ঘুম থেকে উঠে দ্যুতি ও মৌমিতা একসাথে সিনেট ভবনে যান। দ্যুতি জানান, মৌমিতা তার বাসার সামনে অপেক্ষা করছিলেন। পথে তিনি জানান, তিনি চিন্তা করছিলেন আজ সারাদিন কোনো কাজ করবেন না, শুধু বাসায় বিশ্রাম নেবেন।
সিনেট ভবনের তৃতীয় তলায় গিয়ে দরজা বন্ধ থাকায় দুজনেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। দ্যুতি বলেন, “হঠাৎ দেখি মৌমিতা দরজার সঙ্গে কপাল লেগে পড়ে যাচ্ছেন। কিছুক্ষণ শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন, মনে হচ্ছিল অক্সিজেনের ঘাটতি হচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যেই তার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যায়। এরপর দ্রুত এম্বুলেন্সে করে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, তার কোনো সাড়া নেই। সম্ভবত কার্ডিয়াক অ্যাটাক হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, কিছু ফেসবুক পোস্ট ও বক্তব্যে ভুলভাবে দাবি করা হচ্ছে—দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে উঠে সিনেট হলে প্রবেশের সময় দরজায় ধাক্কা খেয়ে পড়ে গিয়ে মৌমিতার মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত ঘটনা তা নয়। প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা অনুযায়ী এটি একটি আকস্মিক স্বাস্থ্য জটিলতা, দুর্ঘটনাজনিত পড়ে যাওয়া নয়।
সহকর্মীরা জানান, মৌমিতা ছিলেন অত্যন্ত মৃদুভাষী, পরিশ্রমী ও সবার কাছে প্রিয় একটি মুখ। তার অকাল মৃত্যুতে অপূরণীয় শোক নেমে এসেছে।