খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
দেশের পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত ইসলামী ব্যাংক চূড়ান্তভাবে একীভূত হওয়ার পথে রয়েছে। ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ’-এর অধীনে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিটি ব্যাংকে একজন করে অস্থায়ী প্রশাসক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। প্রতিটি প্রশাসকের সহায়তার জন্য চারজন করে কর্মকর্তা থাকবেন।
আমানতকারীদের অর্থ ফেরত নিশ্চিত করে ব্যাংক খাতের ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনাই এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সামগ্রিক পরিস্থিতি জানাতে আজ মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের একটি বিশেষ সভা আহ্বান করা হয়েছে।
সরকারের সম্মতিক্রমে শরীয়াহ-ভিত্তিক পরিচালিত এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক একীভূত হয়ে একটি একক ব্যাংক গঠন করবে। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে বিভিন্ন অনিয়মের কারণে এসব ব্যাংকের ৪৮ থেকে ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ এখন খেলাপি হয়ে পড়েছে। একীভূতকরণের জন্য প্রয়োজনীয় মোট ৩৫,২০০ কোটি টাকার মধ্যে সরকার ২০,২০০ কোটি টাকা দেবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আজকের বোর্ড সভায় এসব বিষয়ে অবহিত করা হবে।
জানা গেছে, প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ার পর বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদগুলো বাতিল হয়ে যাবে। সব শেয়ার শূন্য ঘোষণা করা হবে। তবে আমানতকারী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বার্থ রক্ষা করা হবে। একীভূতকরণের আগে একটি নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স ইস্যু করা হবে, যার সম্ভাব্য নাম হতে পারে ‘ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক’। সরকারের মূলধনে এই নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হবে এবং একীভূত হতে যাওয়া পাঁচটি ব্যাংকের সব সম্পদ ও দায় এর অধীনে চলে আসবে। এরপর ব্যাংকটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করবে। একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে আসার পর এই ব্যাংকটির শেয়ার বেসরকারি খাতে বিক্রি করে সরকারের বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। একই সাথে, এই পাঁচটি ব্যাংকের বড় আমানতকারীদের শেয়ার নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হবে। তবে ছোট আমানতকারীরা তাদের টাকা তুলে নিতে চাইলে তাতে কোনো বাধা দেওয়া হবে না।
ব্যাংক একীভূতকরণের সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে চলতি মাসের শুরুতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একীভূত হতে যাওয়া পাঁচটি ব্যাংকের মতামত নেয়। সেই সভায় তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয় কেন তাদের একীভূতকরণের আওতায় আনা হবে না। এসময় ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক সরাসরি সম্মতি দেয়। এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক সময় চেয়েছিল, কিন্তু তাদের সেই অনুরোধ মঞ্জুর করা হয়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি একটি বৈঠকে বলেন, আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার জন্যই ব্যাংকগুলো একীভূত হচ্ছে এবং এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সরকার আমানতকারীদের সব দায়িত্ব নেবে।
খবরওয়ালা/টিএসএন