খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
রাজধানীর সড়কগুলোতে যানজট নাগরিকদের জন্য একটি নিত্যনৈমিত্তিক সমস্যা। গতকাল বুধবার শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচির কারণে দিনভর এই যানজট আরও তীব্র রূপ ধারণ করে। ফলে নগরীর সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ে।
বুধবার সকালে ঢাকার মহাখালী, প্রেস ক্লাব, আজিমপুর এবং আশেপাশের এলাকাগুলোর প্রধান রাস্তাগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। অনেক জায়গায় যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে ছিল।
সরাসরি পরিদর্শনে দেখা যায়, বেলা ১১টার দিকে মহাখালীর সাতরাস্তা মোড়ে পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীরা তাদের সাত দফা দাবি নিয়ে রাস্তা অবরোধ করেন। এর ফলে মহাখালী, বনানী, মগবাজার, মালিবাগ, মৌচাক এবং পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। দীর্ঘক্ষণ যানবাহন আটকে থাকায় অনেক যাত্রী গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে বাধ্য হন।
প্রেস ক্লাবের সামনে চাকরিপ্রত্যাশীরা ৪২তম দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান। করোনাকালে যাদের চাকরির বয়সসীমা শেষ হয়েছিল, তারা বয়সসীমা বাড়ানোর দাবিতে মিছিল নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় কাকরাইল মোড়ে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এতে প্রেস ক্লাব, শাহবাগ, পল্টন, কাকরাইল এবং আশেপাশের রাস্তাগুলোতে ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হয়।
বিকেলে আজিমপুর স্যার সলিমুল্লাহ এতিমখানার সামনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সমাবেশকে কেন্দ্র করে আসাদগেট, সায়েন্সল্যাব, নিউমার্কেট ও আজিমপুর এলাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। এর ফলে শহরের আরও কয়েকটি এলাকায় যানজট ছড়িয়ে পড়ে। দলটি রাষ্ট্র সংস্কার, জাতীয় নির্বাচনে পিআর পদ্ধতি এবং জুলাই সনদের স্বীকৃতির দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করে।
এদিন মালিবাগ থেকে বাংলামোটর যেতে দেড় ঘণ্টা আটকে ছিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনই আন্দোলন আর সমাবেশের নামে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ভোগান্তি আমাদেরই পোহাতে হয়। সকাল ১০টায় অফিসে পৌঁছানোর কথা থাকলেও, দুপুর ১২টার পরেও পৌঁছাতে পারিনি।’
মহাখালী থেকে শাহবাগগামী যাত্রী মিম আক্তার বলেন, ‘এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে দুই থেকে তিনগুণ বেশি সময় লাগছে। গাড়ির ভাড়া বাড়ছে, রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ যেন কারও চোখে পড়ে না।’
চালক ও যাত্রীরা অভিযোগ করেন যে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আগে থেকে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় সামান্য আন্দোলনেও পুরো শহর কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। এই ভোগান্তি থেকে বাঁচতে অনেকে মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতে ছুটে যান। কিন্তু সেখানেও টিকিটের জন্য দীর্ঘ সারি এবং প্রচণ্ড ভিড় দেখা যায়। অনেক যাত্রী টিকিট না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
খবরওয়ালা/টিএসএন