খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিতে রবিবার যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। সরকারি প্রতিনিধি দলে এবার যুক্ত হচ্ছেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা।
অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ভবিষ্যতে ক্ষমতা রাজনৈতিক দলের হাতেই হস্তান্তর করা হবে। তাই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় তাদের সম্পৃক্ত রাখা জরুরি। প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হচ্ছে যেন তারা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজের ধারাবাহিকতার সঙ্গে পরিচিত থাকতে পারেন।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কেবল অভ্যন্তরীণ ঐক্যের বার্তা দেওয়াই নয়, এর পেছনে আরও কৌশলগত হিসাব রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘সম্ভবত তিনি একাই এই ঝুঁকিটা নিতে চাইছেন না। রাজনৈতিক দলকেও তিনি এই ঝুঁকির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে চান, যাতে রাজনৈতিক দলের দিক থেকে কোনো বিরোধিতা না আসে। সেটাও একটা লক্ষ্য থাকতে পারে।’
অধ্যাপক সাব্বিরের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ও আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবেলায় রাজনৈতিক নেতাদের সম্পৃক্ত করা একটি কৌশল হতে পারে। তিনি মনে করেন, তিন দলের অংশগ্রহণ দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধ মেটাতেও সহায়ক হতে পারে। তার ভাষায়, ‘জাতিসংঘের মূল বৈঠকের সাইডলাইনে আরও অনেক কিছুই হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে।’
সরকারি প্রতিনিধি দলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এবং এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন অংশ নিচ্ছেন। জানা গেছে, তারা জাতিসংঘ অধিবেশনের বাইরে কয়েকটি সাইডলাইন বৈঠক ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে আয়োজিত কর্মসূচিতেও যোগ দেবেন।
রাজনৈতিক নেতাদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে তৈরি হওয়া আলোচনায় একদিকে আন্তর্জাতিক মহলে ঐক্যের বার্তা পৌঁছানোর চেষ্টা স্পষ্ট হলেও, অন্যদিকে এটি অন্তর্বর্তী সরকারের কূটনৈতিক ঝুঁকি ভাগাভাগির একটি কৌশল বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।