খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাউশা ইউনিয়নের জামায়াতের সেক্রেটারি ও স্থানীয় মসজিদের ইমাম মো. শামসুল ইসলামের বিরুদ্ধে নারীঘটিত অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি স্থানীয় আনসার সদস্য মো. রুবেল হোসেনের স্ত্রী লামিয়া আশরাফীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং পরে তাকে নিয়ে পালিয়ে যান।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, শামসুল ইসলানের বাড়ি বাঘা উপজেলার বাউশা ইউনিয়নে এবং রুবেল হোসেনের বসবাস চারঘাট উপজেলার ভায়ালক্ষীপুর ইউনিয়নের পান্নাপাড়া গ্রামে।
শামসুল ইসলাম উত্তর সোনাদহ জামে মসজিদে ইমামতি করতেন এবং ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে নিয়মিত মহিলাদের সঙ্গে পুরস্কার বিতরণ, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে সংযোগ তৈরি করতেন।
এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি রুবেল হোসেনের বাড়ীতে নিয়মিত যাতায়াত করতেন এবং লামিয়া আশরাফীর সঙ্গে গোপনভাবে যোগাযোগ রাখতেন।
শুধু রুবেল হোসেনের স্ত্রীর সঙ্গে নয়, শামসুল ইসলানের আরও কয়েকজন মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। যদিও অন্য মহিলাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি, তার অনৈতিক কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন ধরে চলছিল।
অবশেষে সুযোগ বুঝে তিনি লামিয়া আশরাফীকে সঙ্গে নিয়ে পালিয়ে যান এবং পরে লামিয়া রুবেল হোসেনকে তালাক দিয়ে শামসুল ইসলামের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
ভুক্তভোগী আনসার সদস্য রুবেল হোসেন বলেন, ‘শামসুল ইসলামের কারণে আমার সংসার ভেঙে গেছে। তিনি একজন ধর্মীয় নেতার পরিচয়ে আমাদের পরিবারের সঙ্গে মিশতেন। আমি এই ঘটনার সঠিক বিচার চাই।’
স্থানীয় যুবক মাহামুদুল হাসান বলেন, ‘শামসুল ইসলাম ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে প্রভাবিত করতেন। তার কর্মকাণ্ড সমাজে নৈতিক অবক্ষয় সৃষ্টি করেছে।’
রেখা খাতুন নামে এক স্থানীয় নারী বলেন, ‘তিনি সামাজিক অনুষ্ঠানে মহিলাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠতেন। বিষয়টি অনেক আগে থেকেই আমাদের চোখে পড়ছিল। কিন্তু কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি।’
অভিযুক্ত শামসুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, লামিয়া আশরাফীর পরিবারের সদস্যরাও মন্তব্য দিতে রাজি হননি।
চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুন ফেরদৌস বলেন, ‘ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত চলছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
খবরওয়ালা/শরিফ