নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্য সংখ্যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। গণমাধ্যমকর্মীরাও তালিকাটি ফেসবুকে শেয়ার করে প্রশ্ন তুলছেন, সরকার কেন প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশ করছে না। অভিযোগ উঠেছে, এবারের সফরেও প্রকৃত সংখ্যা গোপন রাখা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে প্রাপ্ত তালিকায় দেখা যায়, এবার প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সফরসঙ্গী ছিলেন ১০৫ জন। যা পূর্ববর্তী যেকোনো সময়ের সফরের তুলনায় অনেক বেশি। অথচ এবারও কোনো আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশ করেনি সরকার।
তালিকায় রয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, তাঁর দুই কন্যা, ৭ জন উপদেষ্টা, ৬ জন রাজনৈতিক নেতা, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা, ৫ জন প্রেস সেক্রেটারি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নিরাপত্তা দলের সদস্য, বিভিন্ন দপ্তরের পদস্থ কর্মকর্তা, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের সদস্য এবং কয়েকজন বিশিষ্ট নাগরিক।
তবে, এর আগেও অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান জানিয়েছিলেন, মাত্র ৭ জন সফরসঙ্গী যাবেন। কিন্তু বাস্তবে গিয়েছিলেন ৮০ জনেরও বেশি। এবারও একইভাবে কম সংখ্যা দেখিয়ে ‘রাষ্ট্রীয় খরচ বাঁচানো’র প্রচারণা চালানো হলেও বাস্তবতা ভিন্ন।
এই সফরে ড. ইউনূসের সফরসঙ্গীর তালিকায় এবারও দুই মেয়ের নাম তালিকার শীর্ষে রয়েছে। রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়মিতভাবে তাঁদের বিদেশ সফরে নেওয়া কতটা যৌক্তিক—তা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। আগে প্রতিটি সফরে সফরসঙ্গীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা বই আকারে প্রকাশ করা হতো। কিন্তু বর্তমান সরকার সেটি গোপন রেখেছে।
অন্যদিকে, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে রাষ্ট্রীয় খরচে সফরে যেতেন সর্বোচ্চ ৭০–৭৫ জন। বাকি ১০০–১৫০ জন ছিলেন দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, যারা নিজেদের খরচে সফরে যোগ দিতেন। শুধু তাই নয়, তারা বিদেশ থেকে বিনিয়োগ আনতে এবং দেশের পণ্য রপ্তানির সুযোগ তৈরিতে কাজ করতেন। এসব অনুষ্ঠানে সরকার প্রধান নিজে উপস্থিত থেকে বিনিয়োগ কার্যক্রম তদারকিও করতেন। সফরসঙ্গীদের সংখ্যা ও খরচের বিষয়ে সরকার এখনো কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। এছাড়া রাষ্ট্রীয় একটি অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতাদের সফরসঙ্গী করা নিয়েও চলছে আলোচনা সমালোচনা। সেখানে গিয়ে এই নেতাদের জনরোষে পড়তে দেখা গেছে।
নিচে সামাজিকমাধ্যম থেকে প্রাপ্ত সফরসঙ্গীদের তালিকা দেয়া হলো:







যে চারজন কর্মকর্তার নাম এই তালিকায় নেই তারা হলেন:
এম এম শফিকুর রহমান, জাকারিয়া বিন আমজাদ, বিপ্লব তরফদার, ওয়ালিউর রহমান।
খবরওয়ালা/এমএজেড