খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ময়মনসিংহের তারাকান্দায় বৃদ্ধ হালিম উদ্দিন আকন্দের (৭০) চুল ও দাড়ি কাটার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থানায় মামলা হয়েছে। এতে চুল-দাড়ি কাটা সংগঠন ‘হিউম্যান সার্ভিস বাংলাদেশ’-এর কয়েকজন ব্যক্তি এবং স্থানীয় সহযোগীদের আসামি করা হয়েছে।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ৩টার দিকে তারাকান্দা থানায় ভুক্তভোগীর ছেলে মো. শহীদ আকন্দ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
তবে তদন্তের স্বার্থে আসামিদের নাম প্রকাশ করা হয়নি বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. টিপু সুলতান। তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি প্রায় চার মাস আগের। তবে সম্প্রতি এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি জানার পর আমরা ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা এ ঘটনার বিচার চেয়ে মামলা করেছে। ইতোমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’
শনিবার থানায় বিচার দাবিতে হাজির হন ভুক্তভোগী হালিম উদ্দিন আকন্দ। সঙ্গে ছিলেন ছেলে মো. শহীদ আকন্দ, নাতি আলীম উদ্দিন আকন্দ ও ভাতিজা মো. ফারুক মিয়া।
হালিম উদ্দিন আকন্দ অভিযোগ করে বলেন, ‘ওইদিন আমি বাজারে গেলে তারা আমাকে জোর করে ধরে চুল ও দাড়ি কেটে দেয়। বাজারে তখন লোক কম ছিল। চেষ্টা করেও তাদের হাত থেকে রেহাই পাইনি। তখন আমি আল্লাহর কাছে বিচার দিয়েছি। এখনও আল্লাহর কাছে বিচার চাই। তবে পরিবারের কথায় থানায় অভিযোগ দিলাম, দেখি তারা কী বিচার করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার চুল-দাড়ি কাটার সময় বাইরের দুইজনসহ প্রায় ৮-৯ জন লোক ছিল। তাদের মধ্যে এলাকার নয়ন ও মজনুও ছিল। তারা এখনো এলাকায় আছে। আমাকে ভয় দেখাচ্ছে, মান-ইজ্জত নষ্ট করছে। আমি বিচার চাই।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হালিম উদ্দিনের বাড়ি তারাকান্দা উপজেলার কোদালিয়া গ্রামে। তাকে স্থানীয়রা ‘হালিম ফকির’ নামে চেনে। তিনি মানসিক রোগী নন। প্রায় ৩৭ বছর আগে হজরত শাহজালাল (র.) ও শাহ্ পরানের (র.) মাজারে যাওয়ার পর থেকে তিনি চুল-দাড়ি কাটা বন্ধ করেন। সেই থেকে মাথায় জট বাঁধা অবস্থাতেই ছিলেন।
সংসার জীবনে পুত্র ও কন্যা সন্তানের জনক হালিম উদ্দিন একসময় কৃষিকাজ করলেও ধীরে ধীরে ফকিরি জীবনে প্রবেশ করেন। পাশাপাশি কবিরাজিও করেন। এলাকায় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতেন এবং বাজারে যাতায়াতও ছিল নিয়মিত। পরিবার বা এলাকাবাসীর কাছে কখনো কোনো অভিযোগ ছিল না। তবে গত কোরবানির ঈদের কয়েক দিন আগে উপজেলার কাশিগঞ্জ বাজারে একদল লোক জোর করে তার মাথার জট, দাড়ি ও চুল কেটে দেয়।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিন্দার ঝড় বইছে। বিশেষ করে অসহায়ের মতো হালিম উদ্দিনের বলা বাক্য—‘আল্লাহ, তুই দেহিস’—এখন প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠেছে।
ময়মনসিংহ জেলা বাউল সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম আসলাম বলেন, হালিম উদ্দিন কাদেরিয়া ওয়া নকশবন্দিয়া অনুসারী। তাকে এভাবে হেনস্তা করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। যারা এসব করেছে, তাদের আইনের আওতায় আনা উচিত।
খবরওয়ালা/শরিফ