খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
আগামী বছরের জন্য পবিত্র হজে অংশ নেওয়ার তিনটি সরকারি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ন্যূনতম খরচ ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকা।
রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে হজ প্যাকেজ ঘোষণা করেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।
তিনি বলেন, ‘প্রতি বছরের মতো এবারও বাংলাদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি হজে অংশ নেবেন। সরকারি ব্যবস্থাপনায় তিনটি ভিন্ন ভিন্ন প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে।’
হজ প্যাকেজ-১ (বিশেষ)
এই প্যাকেজের হজযাত্রীদের মক্কায় হারাম শরীফের বহিরাঙ্গন থেকে সর্বোচ্চ ৭০০ মিটারের মধ্যে এবং মদিনায় মারকাজিয়া বা সেন্ট্রাল এরিয়ায় আবাসন সুবিধা দেওয়া হবে। অ্যাটাচড বাথরুমসহ এক রুমে সর্বোচ্চ পাঁচজনের আবাসনের ব্যবস্থা থাকবে। মিনায় জোন-২-এ তাঁবুর অবস্থান এবং মিনা-আরাফায় ‘ডি+’ ক্যাটাগরির সার্ভিসসহ মোয়াল্লেম কর্তৃক খাবার সরবরাহ করা হবে। প্যাকেজের খরচ ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৫৯৭ টাকা।
হজ প্যাকেজ-২
এই প্যাকেজের হজযাত্রীদের মক্কায় হারাম শরীফের বহিরাঙ্গন থেকে ১.২ কিমি থেকে ১.৮ কিমি দূরত্বে এবং মদিনায় মারকাজিয়া বা সেন্ট্রাল এরিয়ায় আবাসন সুবিধা দেওয়া হবে। এক রুমে সর্বোচ্চ ছয়জনের আবাসনের ব্যবস্থা থাকবে। মিনায় জোন-২-এ তাঁবুর অবস্থান এবং মিনা-আরাফায় ‘ডি’ ক্যাটাগরির সার্ভিসসহ মোয়াল্লেম কর্তৃক খাবার সরবরাহ করা হবে। প্যাকেজের খরচ ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৮৮১ টাকা।
উল্লেখ্য, হজ প্যাকেজ-১ ও প্যাকেজ-২-এর অর্থ পরিশোধ সাপেক্ষে মক্কা ও মদিনায় ২ ও ৩ সিটের রুম আপগ্রেডেশন এবং শর্ট প্যাকেজ সুবিধা নেওয়া যাবে। সাধারণত হজযাত্রীদের সৌদি আরব অবস্থানকাল হবে ৩৫–৪৭ দিন, তবে শর্ট প্যাকেজে এটি ২২–৩০ দিন হবে।
হজ প্যাকেজ-৩ (সাশ্রয়ী)
এই প্যাকেজের হজযাত্রীদের আবাসন হবে মক্কায় আজিজিয়া এলাকায় এবং মদিনায় মারকাজিয়া এলাকার বাইরে। এক রুমে সর্বোচ্চ ছয়জনের ব্যবস্থা থাকবে। মিনায় জোন-৫-এ তাঁবুর অবস্থান এবং মিনা-আরাফায় ‘ডি’ ক্যাটাগরির সার্ভিসসহ মোয়াল্লেম কর্তৃক খাবার সরবরাহ করা হবে। হারাম শরীফে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য এসি বাসের বন্দোবস্ত থাকবে। প্যাকেজের খরচ ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এটি সরকারি মাধ্যমে হজযাত্রীদের জন্য নতুন সংযোজন। এর আগে কখনো সরকারি মাধ্যমে হাজিদের আজিজিয়া এলাকায় রাখা হয়নি। তবে ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও মালয়েশিয়ার হজযাত্রীদের বহু বছর ধরে আজিজিয়া এলাকায় রাখা হয়ে আসছে।
বাংলাদেশের হজযাত্রীদের জন্য পূর্ববর্তী এলাকায় থাকা হোটেল বা বাড়ি সৌদি সরকার ভেঙে ফেলায় আগামীতে আমাদের হাজিদের আজিজিয়াতেই রাখতে হবে।
বেসরকারি মাধ্যমের হজ প্যাকেজ
হজ এজেন্সিগুলোর জন্য ‘বেসরকারি মাধ্যমের সাধারণ হজ প্যাকেজ’ শিরোনামে একটি প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে। খরচ ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৯ হাজার ১৮৫ টাকা। সরকার অনুমোদিত এই প্যাকেজ গ্রহণের পর এজেন্সিগুলো অতিরিক্ত দুটি প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারবে। খাবারের জন্য প্রতিদিন ন্যূনতম ৩৫ সৌদি রিয়াল ব্যয় হবে, যা হজযাত্রীদের নিজ দায়িত্বে বহন করতে হবে।
হজের তারিখ ও নিবন্ধন
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০২৬ সালের ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ থেকে সম্ভাব্য ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ পালন করতে পারবেন।
প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু হয়েছে ২৭ জুলাই থেকে এবং সৌদি সরকারের রোডম্যাপ অনুযায়ী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। ১২ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সের শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ ব্যক্তি ২০২৬ সালের হজে অংশ নিতে পারবেন। তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন করা যাবে। প্যাকেজের পূর্ণ অর্থ ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জমা দিতে হবে।
হজ চুক্তি সম্পাদন হবে ৯ নভেম্বর, বাড়িভাড়া ও পরিবহন চুক্তি সম্পাদন করতে হবে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে। হজ ভিসা ইস্যু শুরু হবে ৮ ফেব্রুয়ারি এবং হজ ফ্লাইট শুরু হবে ১৮ এপ্রিল।
খবরওয়ালা/শরিফ