খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১ অক্টোবর ২০২৫
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ঘোষণা করেছেন যে, বিশ্বের যে প্রান্তেই অবস্থান করুন না কেন, আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে প্রবাসীরা এবার ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। তিনি এটিকে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার এক ঐতিহাসিক বাঁকচিহ্ন হিসেবে অভিহিত করেছেন।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে ইসির অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি এই বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, প্রথমবারের মতো বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগকে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় অনেক সহজ ও কার্যকরী করা হচ্ছে। এটি আমাদের গণতান্ত্রিক পথচলার এক ঐতিহাসিক অর্জন। প্রবাস থেকে ভোট দিতে হলে আপনাকে অবশ্যই ‘আউট অব কান্ট্রি ভোটিং’ (Out of Country Voting)-এ নিবন্ধন করতে হবে। এই উদ্দেশ্যে খুব দ্রুতই আমরা ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ (Postal Vote BD) নামের একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন চালু করব। আপনাকে আপনার মোবাইল ফোনে এই অ্যাপটি ডাউনলোড করতে হবে। ডাউনলোড করার পর সেখানে একটি নির্দেশনামূলক ভিডিও (Instructional Video) থাকবে, যেখানে প্রতিটি ধাপে আপনি করণীয় সম্পর্কে জানতে পারবেন।
তিনি জানান, ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধনের জন্য আপনার এনআইডি কার্ড, পাসপোর্টের বিস্তারিত তথ্য এবং প্রবাসের ঠিকানা প্রয়োজন হবে। এই অ্যাপের মাধ্যমে আপনার ফেস আইডেন্টিফিকেশন এবং লাইভনেস ডিটেকশন সম্পন্ন করতে হবে। এই প্রক্রিয়াটি শেষ হলে আপনার নিবন্ধন সম্পন্ন হবে এবং আপনার প্রবাসের ঠিকানায় আমাদের ব্যালট পেপার পৌঁছে যাবে। ব্যালট পেপারটি আমাদের কাছে ফেরত পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় খামও আপনার প্রবাসের ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়া হবে।
ভোট প্রদানের পদ্ধতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপনি ভোট দেওয়ার পর কেবল খামটি ডাকঘরে পোস্ট করবেন। এটি যথাযথভাবে আমাদের দেওয়া নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছে যাবে। আপনি যদি বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে থাকেন এবং প্রবাসী হন এবং নির্বাচনে ভোটদানে আগ্রহী হন, তবে অবশ্যই আপনাকে এই নিবন্ধনের সুযোগটি গ্রহণ করতে হবে। আমরা আশা করি আমাদের সব প্রবাসী ভাইবোন এই সুবিধা কাজে লাগাবেন।
সিইসি আরও বলেন, ভোট সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ‘পোস্টাল বিডি’ অ্যাপের নির্দেশনামূলক ভিডিওতে, আমাদের দূতাবাসগুলোতে, নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে এবং আমাদের সরকারি গণমাধ্যমগুলির মাধ্যমেও পাওয়া যাবে।
তিনি বলেন, একটি শিশু যেমন প্রথম পদক্ষেপ নেয়, প্রবাসীদের ভোটে অংশগ্রহণের জন্য এটি তেমনই একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ—এটি এক ঐতিহাসিক সূচনা। এই ঐতিহাসিক যাত্রায় আমরা প্রবাসী ভাইদের পাশে পেতে চাই এবং আশা করি আপনাদের সক্রিয় অংশগ্রহণে আমরা এটি আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব। আমরা বর্তমান মোবাইল প্রযুক্তি এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আপনাদের ভোটদানের ব্যবস্থাকে অনেক সুবিধাজনক ও সরল করার উদ্যোগ নিয়েছি। এই প্রথমবার নির্বাচন কমিশন এই লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। আসুন, আমরা এই ঐতিহাসিক উদ্যোগে একসাথে শামিল হই এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে সক্রিয় ভূমিকা রাখি। আসুন আমরা সম্মিলিতভাবে নিশ্চিত করি, বিশ্বের যেখানেই আমরা থাকি না কেন, সব বাংলাদেশির কণ্ঠস্বর যেন শোনা যায়।
খবরওয়ালা/টিএসএন