খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: বুধবার, ১ অক্টোবর ২০২৫
চীনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে এক নারী ৫৪ ঘণ্টা ধরে পরিত্যক্ত এক কূপের দেয়াল আঁকড়ে ধরে অলৌকিকভাবে বেঁচে ছিলেন। এ সময় তাকে মশার যন্ত্রণা, পানির সাপের কামড় এবং প্রচণ্ড অবসাদের সঙ্গেও লড়তে হয়েছে। অবশেষে উদ্ধারকর্মীরা তাকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
হংকং থেকে প্রকাশিত ইংরেজি দৈনিক সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটে ১৩ সেপ্টেম্বর, ফুজিয়ান প্রদেশের কোয়ানঝৌ শহরে। ৪৮ বছর বয়সী ওই নারী, কুইন (পদবী), বনভ্রমণে বেরিয়ে হঠাৎ গভীর কূপে পড়ে যান। পরে সঙ্গীরা দ্রুতই টের পান যে, তিনি নিখোঁজ হয়েছেন। প্রথমে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো তথ্য পাননি তাঁরা। এরপর ১৪ সেপ্টেম্বর তিনি নিখোঁজ হওয়ার খবর পুলিশের কাছে জানান।
এরপর, ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। সেই সকালেই তার ছেলে সব চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় জিনজিয়াং রুইটং ব্লু স্কাই ইমার্জেন্সি রেসকিউ সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ১০ জনের একটি উদ্ধারকারী দল পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান শুরু করে। তাদের কাছে থার্মাল ইমেজিং ড্রোনও ছিল অনুসন্ধানের কাজে সহায়তার জন্য।
দলের ক্যাপ্টেন দু শিয়াহাং জানিয়েছেন, সেদিন বেলা ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে তারা হঠাৎ দুর্বল গলায় সাহায্যের ডাক শুনতে পান। সেই দিকে এগিয়ে গিয়ে দলটি ঘাস-গাছের আড়ালে ঢাকা গভীর কূপটি খুঁজে পান। উদ্ধারকারীরা দ্রুত কূপের মুখের চারপাশের উদ্ভিদ সরিয়ে কুইনকে পানির মধ্যে ভাসমান অবস্থায় দেখেন। তাঁর ফ্যাকাশে আঙুলগুলো কূপের দেওয়ালে চড়া ফাটলগুলো আঁকড়ে ধরে ছিল।
কুইন পরে জানান, সৌভাগ্যক্রমে সাঁতার জানা থাকায় কূপে পড়ার পর তিনি দ্রুতই দেয়ালের গায়ে বেরিয়ে থাকা একটি পাথর ধরে ভাসতে পেরেছিলেন। তবে কূপের অনন্য গঠনের—ওপরের দিকে সরু এবং নিচের দিকে প্রশস্ত—কারণে তিনি দেয়াল বেয়ে ওঠার শক্তি পাননি। এই অবস্থায় তিনি এক হাতে পাথরটি ধরে রাখেন এবং অন্য হাতে আরও তিনটি পাথর খুঁজে বের করে পা রাখার অস্থায়ী জায়গা বানান। দুই হাতে দেয়াল আঁকড়ে ধরে তিনি দুই দিনের বেশি সময় এই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিলেন।
কুইন স্মরণ করে বলেন, ‘অনেকবার আমি সম্পূর্ণভাবে হতাশ হয়ে গিয়েছিলাম। কূপের তলা অন্ধকারে ঢাকা, মশা ঘিরে রেখেছিল, এমনকি কিছু সাপও সেখানে ছিল। আমি মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে গিয়েছিলাম। একবার পানিতে থাকা সাপ আমার হাতে কামড় দিয়েছিল। ভাগ্যবশত, সেটি বিষধর ছিল না এবং কোনো গুরুতর ক্ষতি হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনেকবার আমি হাল ছেড়ে দিতে চেয়েছি। কিন্তু তখন আমার ৭০ বছর বয়সী মা, ৮০ বছর বয়সী বাবা, আর কলেজে নতুন ভর্তি হওয়া মেয়েটির কথা মনে পড়ত। যদি আমি তাদের ছেড়ে যেতাম, তারা কী করত? এই চিন্তাই আমাকে ৫৪ ঘণ্টা টিকে থাকার শক্তি জুগিয়েছে।’
উদ্ধারের পর তাকে দ্রুত জিনজিয়াং সিটি হাসপাতাল এবং পরে কোয়ানঝৌ ফার্স্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানান, তার দুটি পাঁজর ভেঙেছে ও ফুসফুসে সামান্য জটিলতা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘক্ষণ দেয়াল আঁকড়ে থাকার কারণে হাতেও গুরুতর ক্ষত ও ঘা হয়েছে। তবে তিনি এখন স্থিতিশীল এবং কয়েক দিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
খবরওয়ালা/এসআর