খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫
জাপানের ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে সাবেক অর্থনৈতিক নিরাপত্তামন্ত্রী সানাই তাকাইচিকে বেছে নিয়েছে। এর ফলে দেশটির ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এপি জানায়, শনিবার (৪ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এলডিপির নেতৃত্ব নির্বাচনের চূড়ান্ত পর্বে তাকাইচি সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুনিচিরো কোইজুমির পুত্র ও বর্তমান কৃষিমন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমিকে পরাজিত করেন।
প্রথম দফার ভোটে তাকাইচি পান ১৮৩ ভোট, কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় রানঅফ ভোট হয়। চূড়ান্ত পর্বে দলীয় ২৯৫ জন সংসদ সদস্য ও প্রায় ১০ লাখ সদস্যের ভোটে তাকাইচি জয়ী হয়ে এলডিপির নেতৃত্ব নিশ্চিত করেন।
রয়টার্স জানায়, সানাই তাকাইচি জাপানের রাজনীতিতে কট্টর-সংরক্ষণশীল মতাদর্শের জন্য পরিচিত। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের অর্থনৈতিক কর্মসূচি ‘আবেনোমিক্স’–এর ঘনিষ্ঠ সমর্থক এবং একাধিক বিতর্কিত নীতির প্রবক্তা।
তার অবস্থানের মধ্যে রয়েছে বিতর্কিত ইয়াসুকুনি মন্দিরে নিয়মিত সফর এবং জাপানের শান্তিবাদী সংবিধান সংশোধনের পক্ষে অবস্থান। পাশাপাশি তিনি তাইওয়ানের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিনিয়োগ চুক্তি পুনর্মূল্যায়নের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
রানঅফ ভোটের আগে দলীয় সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তাকাইচি বলেন,
“দেশজুড়ে মানুষ জানতে চেয়েছিল এলডিপি আসলে কীসের জন্য দাঁড়িয়ে আছে—এই প্রশ্নই আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। আমি চাই মানুষের উদ্বেগকে আশায় রূপান্তরিত করতে।”
এপি আরও জানায়, আগামী মধ্য-অক্টোবরে সংসদীয় ভোটে তাকাইচির প্রধানমন্ত্রী পদ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হবে। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি একাধিক কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বেন।
অক্টোবরের শেষ দিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) সম্মেলনে তার সাক্ষাৎ হতে পারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে। ধারণা করা হচ্ছে, সেই বৈঠকে ট্রাম্প জাপানের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর জন্য চাপ দিতে পারেন।
তাকাইচির নেতৃত্বে এলডিপি নতুন দিক খুঁজে পাবে কি না—তা এখন পুরো জাপান এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আগ্রহের কেন্দ্রে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
খবরওয়ালা/এমএজেড