খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫
উপমহাদেশের বিজ্ঞান জগতের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র মেঘনাদ সাহা।
জন্ম ১৮৯৩ সালের ৬ অক্টোবর, বাংলাদেশের গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার শ্যাওড়াতলী গ্রামের এক অতি দরিদ্র পরিবারে। পিতা জগন্নাথ সাহা ছিলেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, মাতা ভুবনেশ্বরী দেবী ছিলেন গৃহিণী। ছয় সন্তানের মধ্যে মেঘনাদ ছিলেন পঞ্চম।
শৈশবে ছিল অভাবের তাড়না, জীবনের শুরু ছিল কঠিন সংগ্রামে ভরা। কখনো মুদি দোকানে কাজ, কখনো মাঠে গরু-ছাগল চরানো — এসবের ফাঁকেই জ্ঞানের প্রতি তাঁর অদম্য আগ্রহ ও অধ্যবসায়ই তাঁকে পৌঁছে দেয় বিজ্ঞানের শীর্ষ শিখরে।
জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানে আধুনিক যুগের ভিত্তি স্থাপনকারীদের মধ্যে মেঘনাদ সাহা অন্যতম। পদার্থবিজ্ঞানে তাঁর উদ্ভাবিত তাপীয় আয়নায়নের সমীকরণ (Saha Ionization Equation) প্রকাশের পর, ১৯২০ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানের প্রায় সব গবেষণাই তাঁর তত্ত্বের উপর নির্ভর করেছে।
তিনি শুধু পরমাণু ও জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানে নয়, আয়নমণ্ডল, পঞ্জিকা সংস্কার, বন্যা প্রতিরোধ ও নদী পরিকল্পনা বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেন। ভারতের বিজ্ঞানচর্চাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অনন্য ও অনস্বীকার্য।
গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি রয়েল সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত হন এবং চারবার নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন। তাঁর নিরলস প্রয়াসে প্রতিষ্ঠিত হয় ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার ফিজিক্স— যা ভারতের আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণার এক মাইলফলক।
বিজ্ঞানকে সাধারণ মানুষের জীবনের অংশ করে তুলতে তিনি রাজনীতিতেও সক্রিয় হন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লোকসভা সদস্য নির্বাচিত হয়ে বিজ্ঞানচর্চাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করে গেছেন আজীবন।
১৯৫৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি, হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে এই মহাপুরুষের জীবনাবসান ঘটে। কিন্তু তাঁর জ্ঞান, তত্ত্ব ও আদর্শ আজও আমাদের পথ দেখায় —
একজন রাখাল বালক কীভাবে অজানার সন্ধানে নক্ষত্র ছুঁতে পারে, সেই অনুপ্রেরণার অমলিন প্রতীক হয়ে।