খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫
সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর ১৬৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘নাচ–গান হবে’ এমন ধারণা করে একদল ব্যক্তি বাধা দিতে আসেন।
বুধবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পুরান ঢাকার লালবাগ কেল্লায় সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন জানান, নাচ–গানের খবর শুনে একদল লোক বাধা দিতে এসেছিলেন। তিনি তাদের সঙ্গে কথা বলে বোঝান যে, এটি কোনো নাচ–গানের অনুষ্ঠান নয়, বরং ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁকে স্মরণ করার আয়োজন। এরপর তারা স্থান ত্যাগ করেন।
একই তথ্য নিশ্চিত করেন লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী। তিনি বলেন, ঘটনাটি সম্পূর্ণ ভুল–বোঝাবুঝি ছিল। যারা এসেছিলেন, তাদের বিষয়টি ব্যাখ্যা করে জানানো হয় যে এখানে নাচ–গান নয়, সাংস্কৃতিক আয়োজন হচ্ছে। এরপর তারা চলে যান।
সংগীতজগতের কিংবদন্তি সাধক ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ ১৮৬২ সালের ৮ অক্টোবর তৎকালীন ত্রিপুরা প্রদেশের শিবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন, যা বর্তমানে বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার অন্তর্গত।
শৈশবে ‘আলম’ নামে পরিচিত আলাউদ্দিন খাঁ ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতি ও সুরের প্রতি অনুরাগী ছিলেন। তার সংগীতগুরু ছিলেন আগরতলার রাজদরবারের সভাসংগীতজ্ঞ ও তানসেন বংশীয় রবাবী ওস্তাদ কাশিম আলী খাঁ। মাত্র দশ বছর বয়সে তিনি বাড়ি থেকে পালিয়ে যাত্রাদলে যোগ দেন এবং বাংলার জারি, সারি ও বাউলসহ বিভিন্ন লোকসংগীতের সঙ্গে পরিচিত হন।
পরে কলকাতায় গিয়ে প্রখ্যাত সঙ্গীতসাধক গোপালকৃষ্ণ ভট্টাচার্যের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। গুরু মৃত্যুর পর তিনি যন্ত্রসংগীতে মনোযোগ দেন এবং বাঁশি, সেতার, বেহালা, তবলা সহ নানা বাদ্যযন্ত্রে দক্ষতা অর্জন করেন।
সঙ্গীতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি পেয়েছেন ‘সংগীত নাটক আকাদেমি পুরস্কার’ (১৯৫২), ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৫৮), ‘পদ্মবিভূষণ’ (১৯৭১) ও ‘বিশ্বভারতীর দেশিকোত্তম’ উপাধি। ১৯৭২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ভারতের মাইহারে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
খবরওয়ালা/টিএসএন