খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫
নারায়ণগঞ্জ শহরে এক শিশুকে (১১) ধর্ষণের অভিযোগে আবু হানিফ (৩০) নামের এক নাইটগার্ডকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (২০ অক্টোবর) বিকালে খানপুর মেইনরোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের বোন রাবেয়া বেগমের স্বামী মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানান, সোমবার দুপুর দেড়টায় খানপুরের আজিম ভিলার মালিকের ছেলে অভি তাদের বাসায় আসেন। এসে তার স্ত্রী রাবেয়া বেগমকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরে ইব্রাহিমকে ধরে খানপুর জোড়া টাংকির নিচে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে ইব্রাহিম দেখতে পান তার শ্যালক আবু হানিফকে আটকে রাখা হয়েছে। অভির লোকজন তাকে চড় থাপ্পড় মারছেন। তার লুঙ্গি খুলে উলঙ্গ করার চেষ্টা করছেন। একপর্যায়ে তারা আবু হানিফকে অটোরিকশায় করে অন্য কোথাও নিয়ে যান। রাতে তারা খবর পান, খানপুর হাসপাতালে কে বা কারা আবু হানিফের লাশ ফেলে রেখে গেছে।
তিনি জানান, আবু হানিফের বাবার নাম আবুল কালাম। তার গ্রামের বাড়ি খুলনা সদরের খুনতা কাটা গ্রামে। নারায়ণগঞ্জে তিনি খানপুরের ইতু ভিলাতেই থাকতেন। দুই মেয়ে এক ছেলেসহ তার স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে থাকেন।
হাসপাতাল চত্বরে কাঁদতে কাঁদতে নিহতের বাবা আবুল কালাম বলেন, আমার ছেলে অপরাধ করলে শাস্তি দিবো আইনে। কিন্তু তারে মাইরা ফেললো কোন যুক্তিতে! আমি এর বিচার চাই।
নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ওসি নাসির আহমেদ বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি, নিহত ব্যক্তির নাম আবু হানিফ। তিনি খানপুর মেইনরোডের ইতু ভিলার নাইটগার্ড। ওই ভবনের ভাড়াটিয়া একজন গার্মেন্টস কর্মীর শিশুকে ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন তিনি। শিশুটি রবিবার রাতে বিষয়টি তার মাকে জানায়। তার মা সোমবার দুপুরে ঘটনার কথা স্থানীয়দের জানায়।
ওসি বলেন, এ ঘটনা জানার পর স্থানীয় কয়েকজন মিলে তাকে ধরে খানপুর জোড়া ট্যাংকি এলাকায় নিয়ে আসে। পরে তাকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে। তবে ঘটনার বিস্তারিত জানতে আমাদের কর্মকর্তারা তদন্ত করছেন। এ ব্যাপারে বিস্তারিত পরে জানা যাবে।
খবরওয়ালা/এমইউ