বিশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও সংবেদনশীল কবি জীবনানন্দ দাশ— যাঁকে বলা হয় কবিদের কবি, বাংলা কবিতার শুদ্ধতম সাধক।
রূপসী বাংলার এই কবির জন্ম ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি, বরিশালের এক সাহিত্যপ্রেমী পরিবারে। তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ, আর মা কবি কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন সাহিত্যচর্চায় অনুরাগী— এই পরিবেশেই তাঁর কবিসত্তার জন্ম ও বিকাশ।
ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯২২ সালে কলকাতার সিটি কলেজে অধ্যাপনার মাধ্যমে শুরু হয় তাঁর কর্মজীবন।
তবে তিনি কেবল শিক্ষক নন— ছিলেন একাধারে কবি, প্রাবন্ধিক, গল্পকার, ঔপন্যাসিক ও গীতিকার।
স্কুলজীবনেই তিনি কবিতা রচনায় মনোনিবেশ করেন। তাঁর প্রথম কবিতা ‘বর্ষ’ প্রকাশিত হয় ১৯১৯ সালে ‘ব্রাহ্মবাদী’ পত্রিকায়।
পরবর্তীকালে তাঁর হাতে জন্ম নেয় বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী কাব্যগ্রন্থ—
‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’, ‘বনলতা সেন’, ‘রূপসী বাংলা’, ‘মহাপৃথিবী’, ‘সাতটি তারার তিমির’, ‘বেলা অবেলা কালবেলা’ প্রভৃতি।
তাঁর কবিতায় প্রকৃতি, প্রেম, একাকিত্ব ও সময়ের রহস্য এক অবিনশ্বর সুরে মিশে গেছে— যা বাংলা কবিতাকে দিয়েছে নতুন রূপ ও দিকনির্দেশনা।
১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর, কলকাতায় এক মর্মান্তিক ট্রাম দুর্ঘটনায় মাত্র ৫৫ বছর বয়সে চিরবিদায় নেন তিনি।
তবু তাঁর লেখা বেঁচে আছে— বাংলার মাটির ঘ্রাণে, রূপসী বাংলার নীল আকাশে, এবং আমাদের সকলের হৃদয়ে।
অমর কবিকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ।
খবরওয়ালা/এমএজেড



