অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 8শে কার্তিক ১৪৩২ | ২৩ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ধোঁয়ায় ঢাকা আকাশে গর্জে উঠতে পারে এমন এক দানবীয় বিস্ফোরণের কল্পনাই শরীর শীতল করে দিচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়া এবার এমনই এক ভয়ঙ্কর অস্ত্র তৈরি করছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘হিউনমু-৫’, তবে সাধারণ মানুষ এটিকে ইতিমধ্যেই ‘মনস্টার মিসাইল’ হিসেবে ডাকা শুরু করেছে। বছরের শেষের মধ্যে এই বিশালাকার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। খবরটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে কোরীয় উপদ্বীপের দুই প্রান্তে উত্তেজনা নতুনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দানবীয় ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষমতা যে কোনো কারোর ভয় জাগানোর জন্য যথেষ্ট। ওজন প্রায় ৩৬ টন, আর এটি ৮ টন ওজনের ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম, যা মাটির গভীরে থাকা বাঙ্কারও ধ্বংস করতে পারে। সামরিক সূত্র জানাচ্ছে, এটি মূলত ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য হলেও মোবাইল লঞ্চার থেকেও ছোঁড়া সম্ভব। সবথেকে বিস্ময়কর দিক হলো এর পাল্লা—লোডের ওপর নির্ভর করে ৬০০ কিলোমিটার থেকে ৫ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত এটি ছুটে যেতে পারে। অর্থাৎ, উত্তর কোরিয়ার যে কোনো গোপন বাঙ্কার, এমনকি চীনের কিছু অঞ্চলও এর আওতায় পড়তে পারে।
প্রকল্পটির ধারণা এসেছে ২০১০ সালের দিকে, যখন উত্তর কোরিয়ার হামলায় দক্ষিণ কোরিয়ার ৫০-এরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল। তখন থেকেই সিউল বুঝতে পেরেছিল, যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক ছাতার ওপর নির্ভর করা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়। সিউলের আসান ইনস্টিটিউটের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ, ড. ইয়াং উক বলছেন, আমাদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র নেই, তাই সবচেয়ে শক্তিশালী প্রচলিত অস্ত্রই এখন আমাদের হাতে থাকা একমাত্র বিকল্প
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বহু বছর দক্ষিণ কোরিয়ার এই প্রকল্পটি স্থগিত ছিল। তবে ২০১৭ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর এই সীমা তুলে দেওয়ার পর উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। দীর্ঘ প্রস্তুতির পর, দক্ষিণ কোরিয়া এখন এমন একটি অস্ত্র হাতে পেতে যাচ্ছে, যা চাইলে উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতার ভারসাম্য পুরোপুরি বদলে দিতে সক্ষম।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পিয়ংইয়ং হয়তো এটিকে তুচ্ছ বলবে, তবে তাদের মধ্যে ভয় থাকবে। কারণ এই ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্য পারমাণবিক কেন্দ্র নয়, বরং নেতৃত্বের আশ্রয়স্থল—অর্থাৎ কিম জং উনের সম্ভাব্য লুকানোর জায়গাগুলো।
এই পরিস্থিতিতে কোরীয় উপদ্বীপ যেন আবারও ঠান্ডা যুদ্ধের ছায়ায় ফিরে যাচ্ছে। দুই দেশের আকাশে শত্রুভাবাপন্ন নজরদারি চলছে, আর প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে—এই দানবীয় ক্ষেপণাস্ত্র কি সত্যিই শান্তি নিশ্চিত করবে, নাকি উল্টো আগুনে ঘি ঢেলে দেবে?