অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫
যমুনা রেলসেতুতে ফাটল ধরেছে— এমন খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে অনলাইন নিউজপোর্টাল, পত্রিকা ও টেলিভিশনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। তবে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, সেতুতে বড় ধরনের কোনো ফাটলের অস্তিত্ব নেই। সেতুর মূল পিলার অক্ষত রয়েছে; শুধুমাত্র পায়ার ক্যাপের কিছু অংশে চিঁরচিঁরে বা ফাটল সদৃশ কিছু চিহ্ন দেখা গেছে।
গত ১৮ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় যমুনা রেলসেতুর। উদ্বোধনের মাত্র সাত মাসের মাথায় সেতুতে ফাটলের অভিযোগ ওঠে, যা পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারের পর গুজবে রূপ নেয়। এমনকি কেউ কেউ সেতু ভেঙে পড়ার ভুয়া ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব চিহ্ন প্রকৃতপক্ষে ফাটল কি না তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।
সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সেতুর কাঠামো মজবুত ও অক্ষত রয়েছে। প্রকল্প পরিচালক আবু ফাত্তা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পায়ার ক্যাপে ঢালাইয়ের ওপরে একটি আস্তরণ রয়েছে। তাতে কিছুটা চিঁরচিঁরে দাগ দেখা গেছে, তবে এটি মূল কাঠামোর কোনো ক্ষতি করবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘পাথর অত্যন্ত শক্ত ও ক্ষয় সহনশীল। তবে অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে উপরের স্তরে সামান্য চিঁরচিঁরে ভাব দেখা দিতে পারে।’
নতুন রেলসেতুটি ডুয়েল গেজ ডাবল ট্র্যাকসহ নির্মিত হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে এর একটি লাইনে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। প্রকল্প পরিচালক আল ফাত্তাহ মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ‘মূল সেতু পার হতে ট্রেনের সময় লাগে দুই থেকে তিন মিনিট। সয়দাবাদ ও ইব্রাহিমাবাদ স্টেশনের দূরত্ব ১৩ কিলোমিটার, যা ট্রেন সাত মিনিটে অতিক্রম করে। আগে যমুনা সড়কসেতু পার হতে সময় লাগত ২০ থেকে ২৫ মিনিট।’
উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে যমুনা নদীর ওপর সড়কসেতু চালু হয়, যেখানে শেষ পর্যায়ে রেললাইন যুক্ত করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে ঢাকার সঙ্গে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগ স্থাপিত হয়। তবে ২০০৬ সালে সেই সেতুতে ফাটল ধরা পড়লে ট্রেন চলাচলে গতি সীমা ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়।
পরবর্তীতে সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সরকার নতুন পৃথক রেলসেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে নেওয়া হয় ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রকল্পটি। শুরুতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯ হাজার ৭৩৪ কোটি ৭ লাখ টাকা, যা পরে বেড়ে দাঁড়ায় ১৬ হাজার ৭৮০ কোটি ৯৬ লাখ টাকায়। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয় ২০২৫ সাল পর্যন্ত।
প্রথমে এর নাম ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত বছরের ডিসেম্বরে এর নাম পরিবর্তন করে যমুনা রেলসেতু রাখা হয়। ৫০টি পিলারের ওপর নির্মিত ৪৯টি স্প্যানের এই সেতুতে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলার সক্ষমতা রয়েছে। তবে সংযোগ লাইন একমুখী থাকায় বর্তমানে ট্রেন ধীর গতিতে চলছে।
খবরওয়ালা/শরিফ