খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫
প্রতিদিনই নানা প্রশ্ন ও তথ্য জানতে আমরা চ্যাটজিপিটির সাহায্য নিচ্ছি। কেউ একে প্রযুক্তিগত উন্নতির নিদর্শন হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে অতিরিক্ত নির্ভরতার সমালোচনাও করছেন। তবে এবার চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই জানিয়েছে, প্রতিদিন তাদের এই এআই চ্যাটবটের কাছে লাখো মানুষ আত্মহত্যার ইচ্ছা প্রকাশ করছে।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) এক ব্লগপোস্টে এই তথ্য জানিয়েছে ওপেনএআই।
চ্যাটবটটি কীভাবে সংবেদনশীল কথোপকথন সামলায়, সে বিষয়ে একটি আপডেটের অংশ হিসেবে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা কতটা বাড়াতে পারে—এই প্রেক্ষাপটেই তথ্যটি তুলে ধরে প্রতিষ্ঠানটি।
ওপেনএআই জানায়, প্রতি সপ্তাহে এক মিলিয়নেরও বেশি চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারী এমন বার্তা পাঠান, যেখানে আত্মহত্যার পরিকল্পনা বা ইচ্ছার স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
আত্মহত্যা-সংক্রান্ত চিন্তা ছাড়াও, ওপেনএআই আরও জানিয়েছে যে, প্রতি সপ্তাহে সক্রিয় ব্যবহারকারীদের প্রায় ০.০৭ শতাংশ—অর্থাৎ ৮০ কোটি সাপ্তাহিক ব্যবহারকারীর মধ্যে প্রায় ৫ লাখ ৬০ হাজার জন—তাদের কথোপকথনে মানসিক বিভ্রম (psychosis) বা মানিয়াজনিত (mania) গুরুতর মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ প্রকাশ করেন।
তবে ওপেনএআই তাদের ব্লগে সতর্ক করে বলেছে, এমন কথোপকথন শনাক্ত বা পরিমাপ করা বেশ কঠিন, এটি কেবল একটি প্রাথমিক বিশ্লেষণ।
চ্যাটজিপিটির সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যসম্পর্কিত বিষয় প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠানটি এখন বাড়তি নজরদারিতে রয়েছে। সম্প্রতি এক কিশোরের আত্মহত্যার ঘটনার পর তার পরিবার মামলা দায়ের করলে নজরদারি আরও জোরদার হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়, কিশোরটি আত্মহত্যার আগে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথোপকথনে যুক্ত ছিল।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি) ওপেনএআইসহ অন্যান্য এআই চ্যাটবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। এসব চ্যাটবট কীভাবে শিশু-কিশোরদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ওপেনএআই দাবি করেছে, সাম্প্রতিক জিপিটি-৫ আপডেটের ফলে চ্যাটজিপিটির অবাঞ্ছিত আচরণ কমেছে। আত্মহত্যা-সম্পর্কিত ১ হাজারেরও বেশি কথোপকথনের ভিত্তিতে করা এক মূল্যায়নে দেখা গেছে, ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা আরও জোরদার হয়েছে।
তবে মন্তব্যের অনুরোধে প্রতিষ্ঠানটি কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
ওপেনএআই তাদের পোস্টে উল্লেখ করেছে, “নতুন জিপিটি-৫ মডেল আমাদের কাঙ্ক্ষিত আচরণের সঙ্গে ৯১ শতাংশ সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে আগের মডেলে এই হার ছিল ৭৭ শতাংশ।”
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, জিপিটি-৫ সংস্করণে সঙ্কটকালীন সহায়তা হটলাইনে অ্যাক্সেস সহজ করা হয়েছে এবং দীর্ঘ সময় কথোপকথনের সময় ব্যবহারকারীদের বিরতি নেওয়ার জন্য স্মরণ করিয়ে দেওয়ার ফিচার যোগ করা হয়েছে।
ওপেনএআই আরও জানায়, মডেলটিকে আরও নিরাপদ করতে গত কয়েক মাসে গ্লোবাল ফিজিশিয়ান নেটওয়ার্কের ১৭০ জন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞকে গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তারা মডেলের প্রতিক্রিয়া মূল্যায়ন করে মানসিক স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত প্রশ্নে উত্তর তৈরি করতে সহায়তা করেছেন।
এ কাজের অংশ হিসেবে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা গুরুতর মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত ১ হাজার ৮০০টিরও বেশি মডেল প্রতিক্রিয়া পর্যালোচনা করেছেন এবং নতুন জিপিটি-৫ চ্যাট মডেলের উত্তরগুলোর সঙ্গে পূর্ববর্তী সংস্করণগুলোর তুলনা করেছেন।
খবরওয়ালা/টিএসএন