খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫
ক্যারিবীয় অঞ্চলে ধেয়ে আসা শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবহ প্রভাব ইতিমধ্যেই জ্যামাইকাতে অনুভূত হতে শুরু করেছে। দেশটির স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণ মন্ত্রণালয় স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যায় জানায়, ঘূর্ণিঝড়ের প্রস্তুতির সময়ই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা এটিকে চলতি বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (X)–এ এক সতর্কবার্তায় জনগণকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানায়। তারা নাগরিকদের উদ্দেশে জানায়, ঘূর্ণিঝড়ের সময় ছাদে ওঠা, বালুর বস্তা সরানো বা গাছ কাটার মতো কাজগুলো আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ মনে হলেও, এসব কাজে সামান্য ভুলও গুরুতর আঘাত বা মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
বার্তায় আরও জানানো হয়, জলমগ্ন রাস্তা কিংবা আবর্জনায় ভরা এলাকায় গাড়ি চালানো অত্যন্ত বিপজ্জনক। বর্তমানে অনেক স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ থাকলেও, হাসপাতালগুলো খোলা আছে এবং ঘূর্ণিঝড়–সম্পর্কিত আঘাতের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
জ্যামাইকার পানি, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী ম্যাথিউ সামুদা দেশের পরিস্থিতিকে “ভীতিকর” বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের ‘নিউজডে’ অনুষ্ঠানে বলেন, “জ্যামাইকার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশ সমুদ্র থেকে পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে বাস করে। এই ঘূর্ণিঝড় রাজধানী কিংস্টন, ওল্ড হারবার বে, রকি পয়েন্ট এবং সেন্ট এলিজাবেথ–এর মতো নিচু উপকূলীয় অঞ্চলে সরাসরি আঘাত হানতে পারে।”
মন্ত্রী সামুদা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে সরকার দ্বীপের বিভিন্ন অঞ্চলে আশ্রয়কেন্দ্রের তথ্য প্রচার করছে এবং নাগরিকদের ঘরবাড়ি রক্ষায় বালুর বস্তা ব্যবহার করতে উৎসাহিত করছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, অনেক মানুষকে এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে রাজি করানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁর ভাষায়, “বেশিরভাগ মানুষ নিজেদের জীবনের চেয়ে সম্পত্তি রক্ষাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন, যা আমাদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।”
এই পরিস্থিতিতে সামুদা বিদেশে বসবাসরত জ্যামাইকান প্রবাসীদের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন—“সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই” যেন তাঁরা ফোনে পরিবারের সদস্যদের খোঁজ নেন এবং তাঁদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে জোরালোভাবে উৎসাহিত করেন।
“এটি কেবল একটি ঘূর্ণিঝড় নয়, এটি আমাদের সহনশীলতার বড় পরীক্ষা,” — বলেন মন্ত্রী সামুদা।