খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫
বিদেশিদের পরামর্শেই সরকার শ্রম আইনের কিছু ধারায় পরিবর্তন আনছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা।
তাঁদের দাবি, সরকার দেশীয় উদ্যোক্তাদের মতামতকে উপেক্ষা করে বিদেশি স্বার্থকেই প্রাধান্য দিচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ ভবনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীরা এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে শ্রম আইনের তিনটি বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে সংশোধিত ‘শ্রম আইন ২০২৫’ পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান তাঁরা। আপত্তির বিষয়গুলো হলো , শ্রমিকের সংজ্ঞা, ট্রেড ইউনিয়ন গঠনে শ্রমিকের ন্যূনতম সংখ্যা, শ্রমিকদের দ্বৈত প্রভিডেন্ট ফান্ড ব্যবস্থা।
এ ছাড়া এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) উত্তরণ প্রক্রিয়া তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দর মুনাফায় থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত মাশুল বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে ‘অযৌক্তিক’ বলে উল্লেখ করে তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান ব্যবসায়ীরা।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী (পারভেজ), বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিজিএপিএমইএ সভাপতি মো. শাহরিয়ার, ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ, এলএফএমইএবি জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, এবং বাপি সিইও মেজর জেনারেল (অব.) মো. মোস্তাফিজুর রহমানসহ ব্যবসায়ী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা।
শ্রম আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, “বিদেশিদের পরামর্শেই শ্রম আইন সংশোধন করছে সরকার। আমরা চার মাস ধরে প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাৎ চাইছি, কিন্তু এখনো পাইনি। অথচ ১০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে চাওয়া স্পেসএক্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট এলে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন, কিন্তু ৪০ বিলিয়ন ডলারের খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নয়।”
তিনি আরও বলেন, “নেগোসিয়েশন করতে হলে বসতে হয়। সময় না দিলে আলোচনাই বা কীভাবে করব?”
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ট্রেড ইউনিয়ন গঠনে ৩০ শতাংশ শ্রমিকের সম্মতি প্রয়োজন। কিন্তু নতুন প্রস্তাবে সর্বনিম্ন ২০ জন শ্রমিকের সম্মতিতেই ইউনিয়ন গঠনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলেন, মাত্র ২০ জন শ্রমিক দিয়ে ইউনিয়ন গঠন করা হলে সংশ্লিষ্ট শিল্পের বাইরের লোকজনও ট্রেড ইউনিয়ন করবে, যা “শিল্পে অস্থিতিশীলতা, অন্তর্দ্বন্দ্ব ও উৎপাদন ব্যাহত করবে”।
তাঁরা উল্লেখ করেন, ভারতে ইউনিয়ন গঠনে ১০ শতাংশ বা ন্যূনতম ১০০ শ্রমিকের সম্মতি লাগে, পাকিস্তানে লাগে ২০ শতাংশ শ্রমিকের সম্মতি।
দ্বৈত প্রভিডেন্ট ফান্ড ও সর্বজনীন পেনশন প্রগতি বিষয়ে ব্যবসায়ীরা বলেন, সরকার শ্রমিকদের জন্য দুটি পদ্ধতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়েছে, যা উদ্যোক্তাদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি করবে।
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “সংস্কার কমিশনের সভায় যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, খসড়ায় তার অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রশ্ন হলো, কার স্বার্থে এই পরিবর্তনগুলো করা হয়েছে?”
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর ‘ভূরাজনৈতিক প্রভাব নয়’, বরং স্থানীয় পরিচালকদের শেখার সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত।
চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার ব্যবস্থাপনা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে যাওয়ার প্রাক্কালে মাশুল ৪১ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্তেরও বিরোধিতা করেন ব্যবসায়ীরা।
তাঁরা বলেন, ১৯৮৬ সালে ডলারের বিনিময় হার ছিল ২৯ টাকা। এখন টাকার অবমূল্যায়নের কারণে মাশুলের পরিমাণ ইতিমধ্যেই তিনগুণের বেশি বেড়েছে। তাই নতুন মাশুল না বাড়িয়ে দক্ষতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান তাঁরা।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, “সুদের হার বেশি, জ্বালানির ঘাটতি আছে, পণ্য পরিবহনে সময় লাগে অনেক। এই অবস্থায় এলডিসি উত্তরণ হলে আমরা বড় প্রতিযোগিতায় পড়ব। তাই অন্তত তিন বছর সময় পেলে প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হবে।”
তিনি আরও বলেন,“তিন বছর পিছিয়ে দিলে আমরা সাত বছর প্রস্তুতির সময় পাব। তবে এসব সমস্যা সমাধান হলে আগামী বছরই এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনে আপত্তি নেই।”
খবরওয়ালা/আশ