খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর অভিযোগ, রেফারির ভূমিকায় থাকার কথা থাকলেও কমিশন এক পক্ষের হয়ে ‘গোল দিয়েছে’।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে বিএনপি আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে এসব মন্তব্য করেন তিনি। ‘ফ্রম রুল বাই পাওয়ার টু রুল অব ল: ট্রানজিশন টু আ ডেমোক্রেটিক বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই বৈঠকে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জুলাই সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে ১৭ অক্টোবর স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেনি। সরকার ও দু-তিনটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একই পক্ষে কমিশনের অবস্থান দেখা যাচ্ছে, যা রেফারির নিরপেক্ষ ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল কমিশন সরকারকে যে সুপারিশ দিয়েছে, তাতে তাদের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এতদিন আমরা ভেবেছিলাম, ঐকমত্য কমিশন রেফারির ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, সরকার, কমিশন এবং আরও কয়েকটি দল একই দলে।’
বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য অভিযোগ করেন, কমিশনের প্রকাশিত ৯৪ পৃষ্ঠার দলিলে ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় স্বাক্ষরিত মূল দলিলটির পূর্ণ প্রতিফলন নেই। সেখানে কীভাবে ঐকমত্যে পৌঁছানো হলো বা কোনো ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) আছে কি না—তা উল্লেখ করা হয়নি।
সালাহউদ্দিন বলেন, ‘সুপারিশে কিছু দলের প্রস্তাব ও কমিশনের ভাবনা জাতির ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, সংবিধান সংশোধনের ৪৮ দফা প্রস্তাব তফসিল আকারে যুক্ত করে গণভোটের কথা বলা হয়েছে, অথচ বিএনপির সঙ্গে এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।’
তিনি মনে করেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবগুলো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার বদলে বিভাজনের দিকে ঠেলে দেবে।
নির্বাচনসংক্রান্ত আইন পরিবর্তনের সমালোচনা করে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) এখন বলা হয়েছে, জোটভুক্ত দলগুলোকেও নিজেদের প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে। এটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে অনৈক্য সৃষ্টির প্রচেষ্টা।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা অবশ্যই নিরপেক্ষ হতে হবে। আমরা চাই, তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো নিরপেক্ষ আচরণ করুক, যাতে জাতি আশ্বস্ত হতে পারে।’
তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘ঐকমত্য কমিশন ও সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপে ঐক্যের বদলে বিভাজন তৈরি হচ্ছে। এসব উদ্যোগ জনগণকে একতাবদ্ধ করার পরিবর্তে বিভক্ত করছে।’