খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫
খুলনার কামাল পারভেজ মিলন (৪৬), যিনি স্বর্ণের দোকানে চুরি করার জন্য ভারতে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন, সম্প্রতি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ বাজারে চুরি করার চেষ্টা করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন। পুলিশের অভিযানে তার সহযোগী খলিল মৃধাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইমস অ্যান্ড অপারেশন) মো. লুৎফর রহমান জানান, গত ১৫ অক্টোবর রাতের ঘটনা, যখন মা জুয়েলার্স নামের দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি ঘটে। দুই সপ্তাহের তদন্তের পর বুধবার (২৯ অক্টোবর) পৃথক অভিযান চালিয়ে মিলনকে খুলনা থেকে এবং খলিল মৃধাকে চাঁদপুর থেকে আটক করা হয়। এই দুইজনের কাছ থেকে ৭ ভরি স্বর্ণ এবং ৫ লাখ টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে তারা ১২ ভরি স্বর্ণ বিক্রি করেছিল।
চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব জানান, মিলনের বাড়ি সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার পিরোজপুর গ্রামে, আর খলিল মৃধার বাড়ি পিরোজপুরের ইন্দুরকান্দি গ্রামে। খলিল মৃধা চাঁদপুর সদর উপজেলার শেখেরহাট এলাকার একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পে থাকতেন এবং এখান থেকে বিভিন্ন বাজারের স্বর্ণের দোকান লক্ষ্য করতেন। সুযোগ পাওয়া মাত্রই তিনি মিলনকে তথ্য দিতেন।
দোকানের মালিক মন্টু কর্মকার জানান, ওই রাতে মোট ২৪ ভরি স্বর্ণ চুরি হয়।
পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব বলেন, ‘ভারতে প্রশিক্ষণ নেওয়া মিলন স্বর্ণের দোকানে চুরি করার কৌশল শিখেছেন। দেশে ফিরে একটি আন্তঃজেলা চোরচক্র গড়ে তোলেন। এলএলবি ডিগ্রিধারী মিলন শুধু চুরি নয়, নিজেকে সাংবাদিক হিসেবেও পরিচয় দিতেন এবং পূর্বে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদেও প্রার্থী হয়েছিলেন।’
ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহ আলম জানান, ‘চুরির ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে উপপরিদর্শক আরিফুর রহমান সরকারকে নিয়োগ করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে দুই সপ্তাহের প্রচেষ্টায় আমরা দুই আসামিকে আটক করতে সক্ষম হই।’
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুই আসামিই চুরি স্বীকার করেছেন। বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মিলনের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় মোট সাতটি মামলা, আর খলিল মৃধার বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে।