খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫
পেরুর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুগো দে জেলা জানিয়েছেন, “মেক্সিকোর এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত এবং দুঃখজনক।” তিনি আরও যোগ করেন, “এই অবন্ধুসুলভ আচরণের পর পেরু সরকার আজই মেক্সিকোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
মেক্সিকো এই সিদ্ধান্তকে “অতিরিক্ত ও অসম্মানজনক” হিসেবে আখ্যায়িত করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট পেদ্রো কাস্তিলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, তিনি সংসদ ভেঙে অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতাগ্রহণের চেষ্টা করেছেন এবং তাকে সহায়তার অভিযোগ ওঠে চাভেজের বিরুদ্ধে। ২০২৩ সালের জুনে তাকে গ্রেফতার করা হয়, তবে একই বছরের সেপ্টেম্বরে জামিনে মুক্তি পান। চাভেজ নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
পেরু অভিযোগ করছে, মেক্সিকোর বর্তমান ও সাবেক প্রেসিডেন্টরা বারবার পেরুর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছেন। দে জেলা বলেন, “তারা অভ্যুত্থানকারীদের ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে, অথচ পেরুবাসী গণতন্ত্রে বিশ্বাসী।”
আদালতে চাভেজের জন্য ২৫ বছরের কারাদণ্ডের আবেদন করা হয়েছে। অন্যদিকে, অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার আগে পেদ্রো কাস্তিলোর ৩৪ বছরের জেল চাওয়া হয়েছিল। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে তিনি এখনও জেলেই আছেন।
পেরু-মেক্সিকোর এই দ্বন্দ্ব নতুন নয়। ২০২২ সালে কাস্তিলোর স্ত্রী ও সন্তানদের আশ্রয় দেয়ার কারণে মেক্সিকোর রাষ্ট্রদূতকে লিমা থেকে ফেরত পাঠানো হয়। পরের বছর কাস্তিলোর পক্ষে মেক্সিকোর তখনকার প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজের বক্তব্যের পর মেক্সিকো তাদের রাষ্ট্রদূত পেরু থেকে প্রত্যাহার করে।
কাস্তিলো ছিলেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, কৃষক ও শ্রমিক সংগঠক। অভিজ্ঞতা কম থাকা সত্ত্বেও তিনি পেরুর প্রথম “গরিব প্রেসিডেন্ট” হিসেবে ক্ষমতায় এসেছিলেন। দেশের দুর্বল অর্থনীতি সংস্কার এবং দরিদ্র মানুষের জন্য কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও সংসদ ভেঙে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। সেনাবাহিনী ও সরকারি কর্মকর্তারা সমর্থন না দেওয়ায় তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
দেশজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অপরাধ বৃদ্ধির কারণে গত মাসে তার উত্তরসূরি দিনা বোলুয়ার্তে ক্ষমতাচ্যুত হন। এরপর কংগ্রেস নেতা জোসে জেরিকে অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিতে হয়।