খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫
স্বামীর দায়ের করা যৌতুক নিরোধ আইনের মামলায় চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার কামরুন নাহার নামের এক নারীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তন্ময় কুমার দে এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আসামি কামরুন নাহার (৩২) শাহরাস্তি উপজেলার বেরনাইয়া গ্রামের মজিবুর রহমানের স্ত্রী। গত ২০ জুলাই মজিবুর রহমান তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ধারায় (সি আর নং-৩৭১/২০২৫) মামলা দায়ের করেন।
এরপর গত ২১ আগস্ট আদালত আসামির বিরুদ্ধে সমন জারি করে। কিন্তু আদালতে হাজির না হওয়ায় ৫ অক্টোবর কামরুন নাহারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়।
আদালতের নির্দেশে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় কামরুন নাহারের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ গত ৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় কালি বাড়ি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। পরদিন (৪ নভেম্বর) আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুন শাহরাস্তি উপজেলার উল্লাশ্বর গ্রামের আবুল কালামের মেয়ে কামরুন নাহারের সঙ্গে একই উপজেলার বেরনাইয়া গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে মজিবুর রহমানের বিয়ে হয়। বিয়েতে দুই লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করা হয়। বরপক্ষ প্রায় চার লাখ টাকার স্বর্ণালংকারসহ আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ আরও আড়াই লাখ টাকা ব্যয় করে।
বিয়ের পর থেকে স্ত্রী কামরুন নাহার স্বামীর কাছে নগদ অর্থ, জমিজমা এবং শহরে ফ্ল্যাট কেনার দাবি করতে থাকেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, স্বামী মজিবুর রহমানের কাছ থেকে কামরুন নাহার ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট এক লাখ ৯৭ হাজার এবং ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি আরও এক লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে নিয়ে ফেরত দেননি।
মজিবুর রহমানের আইনজীবী চাঁদপুর বারের সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সাইফুল মোল্লা বলেন, “যৌতুক নিরোধ আইন ২০১৮-এর ৩ ধারায় বিয়ের কোনো পক্ষ অপর পক্ষের কাছে যৌতুক দাবি করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। স্ত্রীও যদি যৌতুক দাবি করেন, তার বিরুদ্ধেও মামলা করা যায়। আদালত আমাদের মামলাটি গ্রহণ করেছেন।”
স্থানীয়দের দাবি, কামরুন নাহার সংসারে এসে স্বামীর প্রতি অযৌক্তিক দাবি তুলেছিলেন। এর আগে তার একাধিক সংসার ভেঙে গেছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। স্থানীয়রা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।